• প্রচ্ছদ » » শীতলক্ষ্যার মুক্ত বাতাস খুব জরুরি সেই মেয়েটির


শীতলক্ষ্যার মুক্ত বাতাস খুব জরুরি সেই মেয়েটির

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

বিশ্বজিৎ দত্ত

গাড়িতে সাধারণত সামনের সিটে বসি। এখন আমার ছেলে সামনে বসার জন্য আমার সঙ্গে জোরাজুরি করে। আমিও বুদ্ধি করে ওকে কোলে নিয়ে বসি। যাচ্ছিলাম সিলেট। ভোরে রওয়ানা দিয়েছি। নারায়ণগঞ্জ পার হওয়ার সময় দেখলাম হাজার হাজার মেয়ে শ্রমিক কারখানায় যাচ্ছে। যেন একদল কালো পিঁপড়ার সারি। কারণ মেয়ে শ্রমিকদের প্রায় সবাই বোরকায় ঢাকা। কেমন যেন লাগলো। সারাদিন এই শ্রমিকরা তো কারখানায় থাকে। সকালের এই সময়টুকু কারখানায় যাওয়ার। বড়জোর ২০ থেকে ৩০ মিনিটের পথ। এই সময়টুকুও নিজেদের শরীরে দেয়াল বানিয়ে নিয়েছে। ছেলেগুলোকে দেখলাম কি সুন্দর টিশার্ট গায়ে ফুরফুরিয়ে চলছে। খরচের দিকটাও ভাবলাম। বছরে অন্তত্য দুটি বোরকা লাগে। কম করে হলেও ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকার বাড়তি খরচ। এই টাকায় মেয়েটি হয়তো একটু বাড়তি খেতে পারতো। বাড়তি আনন্দ পেতো বা একটু ভালো জায়গায় থাকতে পারতো। এখন নিজেকে বন্দি করার জন্য বাড়তি খরচ। তার উপর ছেলেদের চেয়ে কম মজুরি। মনটা খারাপ লাগছিলো। এর মধ্যেই একদল শ্রমিক রাস্তা পার হবে। গাড়ি থেমে আছে। কালো পিঁপড়ার সারি রাস্তা পার হচ্ছে। একটা বোরকার নেকাব খুলে গেলো। ছেলেটি এগিয়ে এলো। দ্রæতই হাতের মধ্যে গুঁজে দিলো কাগজে মোড়া রুটি আর পলিথিনে বাঁধা ডাল। বললো, খেয়ে নিস। মেয়েটি ছেলেটির হাত ধরে হেঁচকা টানে এককোণে নিয়ে বললো, কাল কিন্তু ঈদ। শীতলক্ষ্যায় বেড়াতে যাবো। এতোক্ষণে গাড়ি চলতে শুরু করেছে। শীতলক্ষ্যার মুক্ত বাতাস মেয়েটির খুব জরুরি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]