• প্রচ্ছদ » » হাবিল মিয়ার মনে পড়ে, তার মাথায় চুল নেই!


হাবিল মিয়ার মনে পড়ে, তার মাথায় চুল নেই!

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

কুলদা রায়

সারা শহরটাই আজ বেত্তমিজি রকমের ঠাÐা। মানুষজন কী এক আতঙ্কে ঘরে ফিরে যাচ্ছে। হরে কেষ্টর ভাটিখানায় লোক নেই মাছি পড়ছে। যে বা এসেছিলো বা আসতে চেয়েছিলো হরে কেষ্ট তাদের সোজা বলে দিয়েছেন, বাপু হে, আইজ আর রক্ষে নেই। জান বাঁচান ফরজ। যদি বাঁচি তো কয়দিন পরে আইসো। অর্জিনাল দিমুয়ানে। এলাকার সবচেয়ে পুরান বলে পরিচিত হাবিল মিয়ার তখনো আগের দিনের নেশাটা আধখানা রয়ে গিয়েছিলো। এর মধ্যেই পুরোটা তার আনা স্বভাব। হাবিল মিয়া বলে উঠলেন, বাঁইচা থাইকা লাভ কী! মদ খাই মইরা যাওনের লাইগা। খামোখা বাঁচায় রাখতি চান ক্যান কেষ্টবাবু। আপনে মশাই গান্ধীবাবু হওনের তালে আছেন। এইটা জিন্না সাবের হিল্লা। এই দেশে গান্ধীর ভাত নাই। হরেকেষ্ট তাকে বোঝান মরণ নিয়া তার কোনো ঝামেলা নাই। কিন্তু মরণের আগে পুরুষ লোকের মাথা কামাইয়া দেওন, আর স্ত্রী লোকের খোলা মুখে আলকেতরা মাইখা দেওন কী ভালো কথা! তখন হাবিল মিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, সেইটা আবার কেডায় করছে? আয়ুব খাঁ। ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খা। সেটা আটান্ন সালের ঘটনা। আয়ুব খাঁ কি আবার আইসা পড়ছে নিকি? এবার চোখ ছোট করে হরেকেষ্টবাবু তাকে কানে কানে বললেন, আইসা পড়তি কতোক্ষণ। দিনকাল ভালো না। তখন হাবিল মিয়ার মনে পড়ে তার মাথায় চুল নেই। তার মুখটা স্ত্রীলোকেরও নয়। পুরোদস্তুর পুরুষ বলেই মনে পড়ে। চোখের নিচে পট্টি পড়ছে। আয়ুব খাঁ এলে তার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তার বাপের নাম লাল মিয়া… বাড়ি আড়পাড়া। আয়ুব খানের দোস্তি লাগে।
তবে হাবিল মিয়ার আরেকটা কথা মনে হলো। তার একটা লেজ আছে বটে। দুদিন আগে দক্ষিণপাড়ার রানীর বাগানের রানী হাউস করে তার পেছনে একটা লেজ লাগিয়ে দিয়েছিলো। লেজের মাথায় সোনালী জরির পাড়। হাওয়ায় ফর ফর করে শব্দ হয়। সেটা এখনো আছে। রানী তাকে বলেছে সোনার চান, আর যা করো লেজটা কাইটো না। এইটা আমার প্রেম পত্তর। ফলে লেজটা দেখিয়ে হরেকেষ্ট বাবুকে হাবিল মিয়া উত্তেজিত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, এইডারে কি কাইটা ফেলতি পারে? হরেকেষ্ট তার দোকানের ঝাঁপ ফেলতে ফেলতে বললো, ভাতিজা, পারে। লেজটা আয়ুব খাঁ অতি সহজে কাইটা ফেলতি পারে। তোমার লেজটা কাটতি পারলে হরেকেষ্ট সার মাথা কাটনের মেন্নত যায়। নাকি কী কও? এবার হাবিল মিয়া আর অবিশ্বাস করতে পারে না। সে আর দাঁড়ায় না। হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড় লাগায়। আর যা হোক সে হরেকেষ্টর মাথা কাটন সহ্য করতে পারবে না। তার বাঁচন দরকার। ধীরে ধীরে সোনালী জরির ফর ফর শব্দ মিলিয়ে যায়। ততোক্ষণে পুরো শহর সাফা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]