• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি কি টিকে থাকবে?


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি কি টিকে থাকবে?

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

আশিক রহমান : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে বলে দলটির দলীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। যেকোনো সময় তার মৃত্যু সংবাদ আসতে পারে, এজন্য দলটি প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্ততি নিয়ে রেখেছে। তবে এমন গুজবও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে, এরশাদ আসলে আগেই মারা গেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি মাত্র। এরই প্রেক্ষিতে কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে, সত্যিই কি এরশাদ বেঁচে আছেন? থাকলে তার অবস্থা কী? বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কতোটুকু? তিনি যদি সত্যিই মারা যান, তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির অবস্থা কী হবে, টিকে থাকবে কি দলটি?
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সা’দত হুসাইন বলেন, এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে। কারণ রওশন এরশাদ। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি ধারা জাতীয় পার্টিতে তৈরি হয়েছে। এই ধারাটা মাঝেমধ্যে সক্রিয় ও সবল হয়। আবার দুর্বল হয়ে যেতেও দেখা যায়। জাতীয় পার্টিতে এরশাদ যা বলেন, সেটাই পার্টির সিদ্ধান্ত। একতরফা ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার কারণে তিনি যখন তখন যাকে খুশি ছুঁড়ে ফেলছেন, যখন তখন আবার তুলেও আনছেন। ২০১৪ সালে যখন এরশাদ ঠিক করেছিলেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না, তখন রওশন গ্রুপ তাকে সক্রিয় করেছিলো। তিনি আরও বলেন, সরকার কি চায়? কারণ জাতীয় পার্টির পরিচালনার একটা অংশ সরকারের কাছে চলে এসেছে। জাতীয় পার্টির লাগাম পুরোটা নিজেদের কাছে নেই, সরকারের কাছেও কিছু আছে। সরকার কোন গ্রুপকে সমর্থন দেয় এটাও দেখার বিষয় আছে।
ড. সা’দত হুসাইন বলেন, মানুষ মনে করে, জি এম কাদের সরকারের প্রভাবে থাকতে চান না, তবে রওশন এরশাদ সরকারের প্রভাবে থাকতে আপত্তি নেই। রংপুরে প্রভাব কার বেশিÑ জাতীয় পার্টি নাকি এরশাদের? আমার মনে হয়, এরশাদের। কারণ তারা মনে করেন, এরশাদ তাদের ছাওয়াল। প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার প্রতি ওখানকার মানুষের একটা আবেগ আছে। কিন্তু পার্টির প্রতি তাদের অন্ধ ভাবাবেগ আছে কিনা পরবর্তী সময়ে বোঝা যাবে। এরশাদ না থাকলে তার আসনটি জাতীয় পার্টি ধরে রাখতে পারবে কিনা এ নিয়েও প্রবল সন্দেহ আছে আমার।
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় পার্টি একব্যক্তি নির্ভর দল। এর পুরোটাই এরশাদের অধীনে। তার পছন্দমতোই সবকিছু হয়। টাকাপয়সাও তার কাছে থেকে আসে। দলটির নেতাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, সেটি বোঝা যাচ্ছে। তার অবর্তমানে এ পার্টি টিকবে বলে মনে হয় না। প্রথমে কয়েকটা টুকরো হবে। নেতাদের মধ্যে কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ কেউ হয়তো বিএনপিতে যাবেন। কেউ হয়তো অন্যান্য দলে যাবেন। দলটা থাকবে না, থাকলেও নামকাওয়াস্তে থাকবে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টির মতো থাকবে।
রাজনীতিতে এখন জাতীয় পার্টি প্রাসঙ্গিক নয়। দলটি এখন আওয়ামী লীগের বি টিম। রাজনীতিতে এখন তাদের কার্যকর ভূমিকা নেই। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে যে সমস্ত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেখানে জাতীয় পার্টি একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। সেজন্যই আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে রাখে। তাদের সঙ্গে আসন শেয়ারিংও হয়, এরশাদ না থাকলে সেটাও হবে না। এরশাদের উত্তরাধিকার কার হাতে যাবে এ নিয়ে বিতর্ক আছে। নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বও আছে। এরশাদ তো যখন তখন মত বদলান। এখন তার ছোট ভাই জি এম কাদেরকে উত্তরাধিকারী করেছেন, এ নিয়ে রওশন এরশাদ ও অন্যারা নাখোশ। এরশাদ যদি না থাকেন তাহলে জাতীয় পার্টি ভাঙবেই, তা অবধারিত।
জাতীয় পার্টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সামাজিক কোনো চাহিদা নেই। এরশাদের ব্যক্তিগত দল। সামাজিক চাহিদা থাকলে টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষ চিন্তাভাবনা করতো। দলটি আগে বিএনপির রাজনীতি করতো, এখন কিছুটা আওয়ামী লীগ, কিছুটা বিএনপি করে। তাদের তো আলাদা রাজনীতি কখনোই ছিলো না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]