আমার দেশ তো এমন ছিলো না

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

কামরুল হাসান মামুন

প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ’ শিরোনামে লেখাটি পড়ছিলাম আর লজ্জায় কুঁকড়ে উঠছিলাম। এ কেমন অসভ্য ইতরের দেশে আমার বাস? আমার দেশ তো এমন ছিলো না। কারা বানালো? কখন হলো? লেখার কয়েকটি অংশ নিচে কাট এন্ড পেস্ট করলাম। পড়ে দেখুন প্লিজ। লেখাটির জন্য বিশ্বজিৎ চৌধুরীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ।
‘কর্মজীবনে শিক্ষকতা ছাড়া আর কিছুই করিনি…। কিছু ছাত্র আমার সঙ্গে এই আচরণ করতে পারলো! একজন ছাত্র আমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিলো…। এই স্মৃতি সারাজীবন ভুলতে পারবো আমি?’ বলতে বলতে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের সারা শরীর কাঁপছিলো, দুঃসহ এক যন্ত্রণায় বেঁকেচুরে যাচ্ছিলো মুখ।’ ‘ওরা আমার হাত থেকে একটা বই কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে দূরে। আমার অসম্ভব প্রিয় একটা বই। দ্য ইংলিশ ক্রিটিক্যাল টেক্সট নামের এই বই আমি সযতেœ আগলে রেখেছি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে। এখানে এ. জি. স্টক নামের একজন শিক্ষিকার অটোগ্রাফ ছিলো, যিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বাবাকে পড়িয়েছেন, আমাকেও পড়িয়েছেন। ছাত্রাবস্থায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো আমার প্রিয় কয়েকজন শিক্ষকের মূল্যবান কিছু মন্তব্য আমি এ বইয়ের মার্জিনে লিখে রেখেছিলাম। শ্রেণিকক্ষে পড়াতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় বইটা সঙ্গে রাখতাম। আমার একটা হাত ভেঙে ফেললেও হয়তো আমি সহ্য করতে পারতাম, কিন্তু ওই বইটা…।’ বলে আবার ফুঁপিয়ে উঠলেন তিনি।
বলা হয়ে থাকে বা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যে বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকদের স্থান। শুনে আসছি ইউরোপ আমেরিকায় ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়েদের আর ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের সম্মান করে না। আরে বলদের দল ওদের সম্মান দেখানোটা এতোটাই অ্যাবস্ট্রাক্ট যে আমরা বুঝতেই পারি না। মানুষ যতো জ্ঞানী হয় তাদের সম্মান দেখানোও ততো অ্যাবস্ট্রাক্ট হয়। আমরা যে বলদ তার প্রমাণ আমরা সম্মান একদম ন্যাকেডলি দেখাই পাছে যাকে সম্মান দেখাচ্ছি সে যদি না বোঝে। আমাদের তোষামোদিও ন্যাকেড। দিন দিন আমাদের শিক্ষার মানের যে ধস নামছে তারই বহিঃপ্রকাশ এসব। এটাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যেতো যদি সারাদেশে এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হতো। সারাদেশজুড়ে ছিঃ ছিঃ বলে রব পরে যেতো। তা তো দেখছি না।
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখনো দেখেছি আমার থানা লেভেলের কলেজ শিক্ষকদের বেশ সম্মান ছিলো। সেই থানা লেভেলের কলেজের অধ্যক্ষের সম্মান আরও অনেক উঁচুতে ছিলো। এলাকায় যেকোনো অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে নিমন্ত্রণ করা হতো। কলেজের যেকোনো অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষই ছিলেন মধ্যমণি। এখন শুনি এসব পাল্টে গেছে। এখন কলেজের মধ্যমণি এমপি সাব। তিনি আসবেন বলে কলেজে সা সা রব পড়ে যায়। অধ্যক্ষ তার সহকর্মীদের নিয়ে গেটে রিসিভ করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন।
মফস্বলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা তথৈবচ। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে জেলা কমিশনার হন বিশেষ অতিথি। অনেক সময় অনেক ভিসি নাকি দাঁড়িয়ে যান। যারা ওইসব আতিথেয়তা নেন তারা যেমন বেয়াকুফ আর যারা দেন তারা তো বেয়াকুফই বটে। এসব বলদামিতে পূর্ণ আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর সমস্ত কিছু অর্কেস্ট্রেটেড হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। রাষ্ট্র যারা চালায় তাদের মনমানসিকতাই প্রবাহিত হয় রাষ্ট্রের সকল অর্গানে। না হলে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের মতো খ্যাতিমান শিক্ষককে এ রকমভাবে অপমানিত হতে হয়? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]