• প্রচ্ছদ » » খুব ছোট ছোট পাওয়ার জন্য খুব বড় সংগ্রাম


খুব ছোট ছোট পাওয়ার জন্য খুব বড় সংগ্রাম

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

লাভা মাহমুদা

আকাশ তার মনের কথা নানাভাবেই বলে দেয়। কখনো শ্রাবণের বৃষ্টি হয়ে, কখনো শরতের শুভ্রতা দিয়ে, কখনো বসন্তের মাতাল সমীরণে, কখনো চৈত্রের খরতাপে, কখনো বা বৈশাখের কালবৈশাখী হয়ে। নানা রূপে, নানা ঢঙে সে তার আনন্দের কথা, কষ্টের কথা, বেদনার কথা, মোহের কথা জানিয়ে দেয়, বুঝিয়ে দেয়। আমি বা আমার মতো মানুষেরা কি জানাতে পারে তাদের মনের কথা… কষ্ট বা আনন্দের কথা? স্পষ্ট করে বলতে চাইছি…নারীর কথা, বাংলাদেশের নারী। যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে নারীর বাস, সেখান থেকে একজন নারীকে কতোটা সংগ্রাম করতে হয়। খুব ছোট ছোট পাওয়ার জন্য খুব বড় সংগ্রাম। কিন্তু সে সংগ্রাম দিয়ে নারী তার জীবনের খুব ছোট ছোট সাধগুলোও মেটাতে পারে না। নারীর মনের ইচ্ছা প্রকাশের স্থান কোথায়? কোনো মেয়ে যদি বলে তার খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগছে, বিকালের কনে দেখা রোদে গা এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে, সমুদ্রের নোনা জলে গলা ডুবিয়ে সাঁতার কাটতে মন চাইছে, সবুজ পাহাড়ের উপর মাচায় শুয়ে সারাটা বেলা কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে বা বাড়ির পাশের নদীর ধারে এলো চুলে বসে কবিতা লিখতে, কবিতা পড়তে ভালো লাগছে বা নিদেনপক্ষে বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় চুপটি করে বসে থাকতে মন চাইছে… সবাই বলবে মেয়েটিকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে বা আদিখ্যেতার এক শেষ। মেয়েটি যদি মেধাবী হয় তাহলে তার ভাগ্যের শিকে হয়তো ছিঁড়বে কিন্তু খুব সাধারণ মেধার হলে তো কথাই নেই। বেশ খানিকটা অনাদর আর অবহেলাকে সঙ্গী করে তার বেড়ে ওঠা। যেনতেন রকমের পড়াশোনা করতে করতেই বাবার বাড়ি থেকে বোঝা নামানোর জন্য উঠেপড়ে লাগা। তারপর একদিন সেই মেয়েটির কোনো ধরনের মানসিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ছাড়াই সংসার নামক এক কঠিনতর সংগ্রামে ঠেলে দেয়া। বোকা মেয়েটিও ভাবে যাক, বাঁচা গেলো! হাতে মেহেদি লাগিয়ে পার্লারে সেজেগুজে বধূ বেশে ভবিষ্যতের সুখস্বপ্নে বিভোর তখন সে। জানে না, কী দুঃসহ যাতনা তার জন্য অপেক্ষা করছে জীবনভর!
সংসার নামের জোয়াল কাঁধে নিয়ে চলতে গিয়ে তার সেই আদিখ্যেতা বা পাগলামির রেশ মাত্র আর অবশিষ্ট থাকে না। যুদ্ধে যুদ্ধে সে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। যে রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে, ভালোবাসা ভেবে পরম নিশ্চিন্তে, যার কাঁধে মাথা রেখেছিলো, সময়ের পরিক্রমায় সে কাঁধটি অনেক ভারি হয়ে যায়… নিশ্চিত ভাবটি থাকলেও ভালোবাসার মোহটি উবে যায়। সে কাঁধে অনেক কিছু থাকলেও ভালোবাসা নামক পাখিটি কোথায় যেন উড়ে যায় অথবা ভালোবাসা নামক অনুষঙ্গটি হয়তো তৈরিই হয়নি কখনো। হায় রে জীবন! জীবনের বোধ! সংসার ধর্ম, সন্তান পালন, জনে জনে সেবা দিতে দিতে জীবনের সূর্যটা মধ্য গগন পেরিয়ে অনেকটাই পশ্চিমে হেলে পড়ে। তখন পাহাড় দেখা, সাগরে নামা, আদিগন্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা… কিছুই মনকে শান্ত করতে পারে না। ধর্মকর্ম করতে করতে পরপার হাতছানি দেয় তাকে। তবুও কেউ কেউ আছে যারা ¯্রােতের বিপরীতে থাকে। পড়ন্ত বেলায়ও জীবনের সাধগুলো যায় না তার। নস্টালজিয়ায় ভোগে… জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে আর জীবনের হিসেব মেলায়। মনে তার ভিসুভিয়াস উদগীরণ… জীবনটাকে রাঙাতে চায়, রঙিন হয়ে উঠতে চায়, অব্যক্ত কথা, অদেখা ইচ্ছে, অফুরন্ত জীবনীশক্তি, রবি ঠাকুরের গান… সব কিছু মনের আগল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চায়। হায়! কী করে তা সম্ভব? সমাজ, সমাজের বাস্তবতা, লোকাচার, পরিবার সব কিছু আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে যে। কী করে পরিত্রাণ মিলবে… সবাই তো সব কিছু চুরমার করার সাধ্য রাখে না। তবু বাঁচতে ইচ্ছে করে, অন্যের মতো করে নয়… একেবারে নিজের মতো করে। সাধ জাগে, নিজের মতো করে বাঁচতে। ভালোবাসতে, ভালোবাসায় থাকতে… আকাশ, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, প্রিয় মানুষ, প্রিয় মানুষের সঙ্গ… সব কিছুর মাঝে একাকার হয়ে যেতে বড়ই ইচ্ছে করে। খুব ছোট ছোট ইচ্ছের বড় বড় সাধ। আহ জীবন! বড়ই আনন্দময়!




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]