ঘরের কথা!

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

রীতা রায় মিঠু

ঘরের কথা কী আর কইমু! এসি চলে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা। এরপরেও রাইস কুকারে থাকা রাইতের ভাত পরের দিন নষ্ট হইয়া যায়। উত্তমের খিদা পায় সবতের আগে, তাইনে আগে আগেই খাইয়া উঠে। আমরা যখন পাঁচজনের পরিবার ছিলাম, যখন বিজ্ঞান উন্নত ছিলো না, ফেসবুক নামের কিছুই ছিলো না, তখন আমরার সংসারে সুখ বাইয়া বাইয়া পড়তো! খাওয়া দাওয়া করতাম একসঙ্গে। বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সুখের বারোটা বাজছে। এখন সবতেই আলগ আলগ। উত্তম তো আবার কথা কম কয়, পচা ভাতও নীরবে খাইয়া উঠে। ভাত যে পচে গেছে, হেই কথাটাও মুখ ফুইট্টা বলে না। আমি যখন খাইতে যাই, তখন ভাতে হাত দিয়াই চিল্লানি দিই, ‘ভাত তো পইচা গেছে। এই ভাত তুমি খাইছো?’ উত্তম কয়, আমার খাওয়ার সময় ততো খারাপ ছিলো না। আমি নতুন কইরা ভাত রান্দি তবে খাই, ভাতের ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো দরাদরি চলে না। আইজ দিনের বেলায় রাইস কুকার নিজে হাতে ফ্রিজে ঢুকাই রাখছিলাম, রাইতে ভাত রান্দার সময় নিজে হাতে ভালো ভাত নতুন ভাতের সঙ্গে মিশাই দিছি। উত্তম খাইতে গিয়া ভাতের মইদ্যে নাক দিয়া গন্ধ শুঁকে আর নাক কুঁচকায়! আমি কই, ‘কি ব্যাপার, ভাত কি নষ্ট?’ উত্তম কয়, নষ্ট হওয়ার পথে! আমি কই, নষ্ট হয় ক্যামনে? ইসরে! তুমি কি তাহলে সব দিন নষ্ট ভাত খাও! উত্তমের জবাব শুইনা মনে হইলো তসলিমা নাসরিনের কাছে বিচার দিই। উত্তম কয়, ‘কী আর করা, কপালে যা লেখা, নষ্ট ভাত কপালে থাকলে তো সেটাই খেতে হবে।’ আমি কই, তুমি এই কথা কইতে পারলা? সারাজীবন তোমার খাওন লওনের দিকে এতো নজর রাখলাম, আছিলা তো পাঠকাঠির মতো দেখতে, এখন কইতাছো, কপালে নষ্ট ভাত লেখা থাকনের কথা! তসলিমা নাসরিন কি সাধে বেটা জাতের বদনাম করে? এতো কথা কইলাম, উত্তম দেখি কোনো রাও শব্দ করলো না। নিজে ভাত খাইতে গিয়া দেখি, সত্যই ভাতে কেমন জানি গন্ধ! বেচারা উত্তম, পচা ভাতও খাইলো, আমার বকাও খাইলো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]