চিঠি

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

রাফী হক

আমার এক স্কুল শিক্ষিকা বন্ধু আমাকে চিঠি লিখতো। একদিন তার ছোট বোনটি একথা জানার পর আকাশ থেকে পড়ে বললো, ‘হায় খোদা! এই যুগে কেউ কাউকে চিঠি লিখে নাকি’! তার ভাবটা এমন যে, বন্ধুত্ব হতে পারে। প্রেম-প্রীতি হতে পারে। এমনকি ভালোবাসাবাসিও হতে পারে। কিন্তু চিঠি? সে তো ‘হায় খোদা’ টাইপের কিছু! ভয়ংকর কিছু! এতেই বোঝা যায়… আমাদের শিক্ষা, রুচি, সংস্কৃতি ‘হায় খোদা’র মতো আক্ষেপের জায়গায় পৌঁছেছে। ভাবুন তো একবার রবীন্দ্রনাথের ‘চিঠিপত্রের’ কথা! রাণুকে লেখা তার চিঠিগুলোর কথা। ‘ছিন্নপত্র’ ও ‘ছিন্নপত্রবলীর’ কথা। কিংবা ভাই থিওকে লেখা ভ্যান গগের চিঠিগুলোর কথা। এই চিঠিগুলো না থাকলে রবীন্দ্রনাথকে একান্ত করে জানাই হতো না। আজকের ভুবনখ্যাত শিল্পী ভ্যান গগকেও পেতাম না। ভাবুন কিটসের কথা। ‘ব্রাইট স্টার’ নামের সংকলনের কবিতা আর পত্রাবলি পড়লে সৌন্দর্য ও প্রেমের একাকার হওয়া এক অদ্ভুত অনুভ‚তি মনকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কিটস তো বলেইছিলেন, ‘ভালোবাসাই আমার ধর্ম, প্রেমের জন্য আমি মরতেও পারি।’ ফ্যানিকে লেখা তার চিঠি সর্বকালের সেরা প্রেমপত্রগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে। ১৮২১ সালে মাত্র ২৫ বছর ৪ মাস বয়সে রোমে মারা যান কিটস। তাকে সমাহিত করা হয় তার প্রিয়তমার একগুচ্ছ চুল আর না খোলা চিঠিসহ। এখন আর কেউ কাউকে হাতে, মুক্তাক্ষরে চিঠি লিখে না। চিঠি পাবার দিন নেই। প্রিয় বন্ধু, প্রিয়জনের চিঠি পাবার যে আকাক্সক্ষা, যে রোমাঞ্চ তা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানেই না। আমার কলেজ জীবনে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও এমনটি ছিলো… কখন ডাক পিয়ন আসবে, কখন বাড়ি ফিরে ডাকবাক্স খুলে রোমাঞ্চিত হবো, শিহরিত হবো… এমনটি হওয়া হয় না আজকাল।
ঠিক চিঠি নয়, খবর দেয়া-নেয়ার দ্রæত লভ্য অনেক আধুনিক উপায় এখন হাতের মুঠোয়! কিন্তু চিঠি তো কোনো খবর নয়। চিঠি অনেক কিছু। একটি চিঠিতে মিশে থাকে ওই সময়, তার আশপাশটা, সময়ের আলো-ছায়া, সময়ের স্মৃতি…! এমন কতো কিছুই না থাকে… কতো সুখবোধ, আনন্দবোধ, বেদনাবোধ সব কিছু যেন একটি আকাশে উড়তে থাকে ভ্যানগগের পেইন্টিংয়ের মতো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]