বর্ষার দূত কদম ফুটেছে

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

শাহীন খন্দকার : বর্ষার দূত কদমফুল ফুটেছে আরো আগেই, অগ্রদূত হিসেবে। কিন্ত রোদের তেজ মনে করাচ্ছে চৈত্রের কথা! চলছে দিনরাত প্রচ- ভ্যাপসা গরম। বেলা হতেই ঠা ঠা রোদ। পথে প্রান্তরে ঘাম ঝরছে খেটে খাওয়া মানুষের। কর্মজীবী, চাকুিরজীবীরা পথে বের হলেই গলদর্ঘম অবস্থা। সর্বত্রই বৃষ্টির জন্য হা-হুতাস। দে বৃষ্টি দে! মাসের পর মাস গরমের দাপটে নাজেহাল বাংলাদেশের কোটি মানুষ! নদনদীর দুয়ার খোলা অথচ তীর ভাঙ্গা ঢেউয়ের নাচন নেই। আর সেই দিনে আজি প্রখর রোদে আকাশ পোড়া রঙ পুড়েপুড়ে খাক হচ্ছে লোহিত রঙিন। কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় লিখেছেন, হায় পাখি, একদিন কালিদহে ছিলে না কি দহের বাতাস। আষাঢ়ের দু’-প্রহরে কলরব করিনি কি এই বাংলায়। সরু সবুজ পাতার ডালে ডালে আরও রয়েছে গোলাকার মাংসলো পুষ্পাধারা আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাঁপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্নভাবে। একটি ফুলের মাঝে এত চিন্তার ছোঁয়াতে কদমকে করে তুলেছে আরও গ্রহণযোগ্য।
কদম গাছের ফুল ছাড়া আরও রয়েছে ফল। এ ফলগুলো দেখতে অনেকটা লেবুর মতো। কদম গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় আর কচি সবুজ পাতা নিয়ে আগমন ঘটে বসন্তের। কদম ফুলের আছে আরও অনেক নাম। ললনাপ্রিয়, সুরভী, কর্ণপূরক, মেঘাগম প্রিয়, বৃত্তপুষ্প ছাড়াও নীপ মানে পরিচিত এ কদম ফুল। কদমের একেকটি গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর সবুজ ঝরঝরে পাতার মাঝে থাকা গোলাকার কদম ফুল বর্ষায় বৃষ্টির জলে আরও রূপসী হয়ে উঠে। কদম ফুল ছাড়া কদম গাছও বেশ উপকারী।
কদমের গাছ থেকে যেমন জ্বরের ওষুধ তৈরি করা হয় তেমনি এ গাছ দ্রুত বাড়ে, একে জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত এবং চীনে এর দেখা মেলে। কদমের আরেকটি সংস্কৃত নাম আছে। এ গাছকে তাই কদম্ব বলেও অনেকে চেনে। কদমের এ রূপের কারণে একে যুগে যুগে কবিরা তাদের কবিতায় লিখে গিয়েছেন ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]