রাজধানীর সড়কে পাশাপাশি একই নম্বরপ্লেটের দুই গাড়ি!

আমাদের নতুন সময় : 06/07/2019

সুজন কৈরী : রাজধানীর একটি সড়কে পাশাপাশি একই মডেলের দুটি গাড়ি ও এগুলোতে লাগানো নম্বর প্লেটও এক থাকার একটি ছবি ফেসবুকে আপলোডের পর থেকে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এটি কীভাবে সম্ভব এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে! আবার ছবিটি সত্যিই না কারসাজি ? এমন সংশয়ও তৈরি হয়েছে । তবে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিআরটিএ) মনে করছে, ছবিটি ভুয়া না। গাড়ি দুটির খোঁজ নিচ্ছে সংস্থাটি। সেইসঙ্গে অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশের পাশাপাশি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষও।
রুহুল আমিন রিপন নামের একজন টয়েটো মডেলের দুটি প্রাইভেট কারের ছবি দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। গাড়ি দুটির ছবি পেছন থেকে তোলা হয়েছে। ছবিতে গাড়ি দুটির নম্বর প্লেটে লেখা আছে ঢাকা মেট্রো-গ ৪২-৪৬১৮ । পোস্টে রুহুল আমিন লিখেছেন, ‘ছবিটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমিও বিভ্রান্ত হই। কিন্তু অরিজিনাল হিসেবে বিশ্বাস করি। কারণ ছবিটা প্রথম ফেসবুকে শেয়ার করেন বাম মতাদর্শের একজন এক্টিভিস্ট। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ওনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু উনি কোনো সাড়া দেননি। তবে কমেন্টে উনি দাবি করেছেন, ছবিটা অরিজিনাল। বিষয়টা নিয়ে আমি এরই মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দার সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও অনুসন্ধানে নেমেছে। তবে ওই বাম ফেসবুক এক্টিভিস্ট ভদ্রলোক গোয়েন্দাদেরও সহযোগিতা করেননি। আশা করছি শিগগিরই সমাধান আসবে।’
পুলিশ বলছে, একই মডেল ও রঙের গাড়ি দুটি হতেই পারে। তবে একই নম্বরে দুটো গাড়ি কখনো হয় না। অন্য কিছুর আশ্রয় নিয়ে গাড়ি দুটি চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এটার কোনো কারণ আছে। পুলিশ গাড়ির কাগজ পরীক্ষার সময়ই ইঞ্জিনের সঙ্গে কাগজ মিলিয়ে দেখে। বাণিজ্যকভাবে একই হলেও ইঞ্জিন নম্বর তো আলাদা করার সুযোগ নেই। তাই একই নম্বর প্লেটে দুটি গাড়ি পৃথক জায়গায় চললেও সেটা ধরা সম্ভব সব সময় হয় না। আর এটি যদি হয়ে থাকে তাহলে বিআরটিএর নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেই ঘাপলা থাকতে পারে। হয়ত এভাবে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার গাড়ির মালিকদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। হয়ত একই নম্বরপ্লেটের দুটি গাড়ির একটি ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ কোনো কাজে। তার তাতে ফেঁসে যেতে পারেন নিরপরাধ অপরজন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা গাড়ির নম্বর যাচাই করে জানিয়েছেন, এই গাড়িটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ঋণে কেনা হয়েছে। মালিকানায় আসওয়াত কম্পোজিট মিলস নামে একটি পোশাক কারখানা। তিনি জানান, গত ৩ মার্চ গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এখনো ডিজিটাল নম্বর প্লেট মালিকপক্ষ নেয়নি। এ কারণে আরেকটি নম্বর প্লেট বানিয়ে অন্য একটি গাড়িতে লাগানো সম্ভব। এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে গাড়ির মালিককে ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের মহাখালী অঞ্চলের এসি সুবীর রঞ্জন দাস বলেন, গাড়ির নম্বর প্লেটের নম্বর এক হতে পারে। তবে সিরিজ আলাদা হয়। যেমন গ, ঘ এর পার্থক্য থাকতে পারে। অনেক সময় সিরিজের ভুল থাকে। কিন্তু এই নম্বর প্লেটে গাড়ির নম্বর এবং সিরিজ একই। তাই এখানে কোন ‘গলদ’ থাকতে পারে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল নম্বর প্লেট আমরা দেইনি। এটা কাগজ প্রিন্ট করে লাগিয়ে নেয়া হয়েছে। হয়ত ভেবেছে কাগজ নেই, রেজিস্ট্রেশন নেই, ফাঁকি দিয়ে কিছুদিন চালানো যাবে। যাদের আমরা রেজিস্ট্রেশন দিয়েছি তাদের কল করেছি। তিনি আরো বলেন, গাড়ির ছবি ভুয়া মনে হচ্ছেনা। একই মডেলের গাড়ি হওয়ায় হয়ত একটা করেছে আরেকটা করেনি। যেহেতু হাতে লেখা নম্বর প্লেট। এরাই দুষ্টুলোক। অঘোষিত সুবিধা নেয়ার জন্য এটা করতে পারে। সম্পাদনা:সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]