• প্রচ্ছদ » » আমাদের মধ্যে থেকে কি মানবিকতা ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে?


আমাদের মধ্যে থেকে কি মানবিকতা ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

লাভা মাহমুদা

মূল্যবোধ বিষয়টি এদেশ, এ সমাজ থেকে উঠেই গেছে। নইলে মানুষের মাঝে মানবিকবোধ বিলীন হয়ে যাবে কেন? আমরা বোধশূন্য হতে হতে নির্বোধ হয়ে যাচ্ছি। চারদিকে এতো অনাচার, অত্যাচার, অশুদ্ধতা দেখতে দেখতে বিশুদ্ধতা মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। শুধুই কি নয়ন বন্ড, সিরাজুদ্দৌলা, ডিআইজি মিজান বা দুদকের এনামুল বাসির? এমন লাখ লাখ কীটে দেশ ভরে আছে। কে নেই এই তালিকায়… মাদ্রাসার হুজুর, স্কুল-কলেজের শিক্ষক থেকে একেবারে বাস-ট্রাকের চালক, সহকারী সবাই আছে। স্থান কাল পাত্র ভেদে অবক্ষয় সবখানে, সবস্থানেই। মোটাদাগে যেগুলো ঘটছে সেগুলো আমাদের চোখে পড়ছে, নজরে আসছে। কিন্তু আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বললে বা সোশ্যাল মিডিয়া ঘুরে আসলে এই অবক্ষয়ের চিত্রটি খুবই স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেললো… সব দায় পড়লো ওই মেয়েটির ঘাড়ে। কেন আগে একটি বিয়ে হলো, কেন সেই ছেলেটিকে ছেড়ে অন্য একটি ছেলেকে বিয়ে করলো।। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় কতো মুখরোচক কাহিনী। এখানে নির্মম হত্যাকাÐের চেয়েও নারীর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কুৎসিত চোখে দেখা হয়েছে। অথচ পৃথিবীর সব সভ্য সমাজেই ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো হয়।
এর দায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, সরকার, রাষ্ট্র… সবার। একটা মানবশিশু এই অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবীতে আসে একেবারেই নিষ্কলুষ হয়ে। প্রথম কান্না দিয়েই সে জানান দেয়…‘এ মুক্তমঞ্চে এসেছি সুন্দরের অসীম আবেদন নিয়ে।’ কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় কেউ রবীন্দ্রনাথ হয়, কেউ ব্রেন্টন টারান্ট ( ক্রাইস্টচার্চ হামলার হত্যাকারী) হয়। কেউ মানুষ হয়, কেউ দানব হয়। আর বেশিরভাগই… মানুষ এবং দানবের মাঝামাঝি কিছু একটা হয়, মানবিক বোধশূন্য, ক্ষতিকর, অপাঙক্তেয়। ভালো মানুষ হওয়ার বদলে শুধুই ভালো ছাত্র হতে হবে এবং অর্থ-বিত্তের মালিক হতে হবে… এটাই আমাদের পরিবারগুলোর শিক্ষা। মানুষের মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। মনে করতে পারি গত দশ বছর আগেও পরিস্থিতি এতোটা ভয়াবহ ছিলো না। মানুষের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ছিলো খুবই স্পষ্ট। সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার বিষয়টি লালন করা হতো, সংস্কৃতির চর্চা হতো ব্যাপকভাবে। মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা ছিলো, কিন্তু মানসিকতা ছিলো অনেক উর্বর। এখন হঠাৎ করেই সব উবে গেছে। হঠাৎ করে বলাটা ঠিক হলো না… বেশ অনেকদিন থেকেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে এ সমাজ, সমাজের মানুষ। সামাজিক রূপান্তর একটা অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়া। সমাজে পরিবর্তন ঘটবেই। কিন্তু এতোটা ঋণাত্মকভাবে ঘটলো! চোখের সামনেই উন্নততর সামাজিক, মানসিক, সাংস্কৃতিকভাবে অগ্রসরমান একটা সমাজকে পেছনের দিকে দৌড়তে দেখলাম। উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে প্রিয় স্বদেশ আমার…অস্থি, কংকালসার এক সামাজিক বিন্যাস। যেখানে হত্যা, ধর্ষণ, খুন, গুম থেকে শুরু করে হেন কোনো বিষয় নেই, যা ঘটছে না। কেউ অসৎ হয় সংসার বাঁচাতে, কেউ সুইস ব্যাংক বা লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড বা বারমুদার মতো ট্যাক্স হেভেনগুলোতে টাকা জমাতে। যেভাবেই হোক, সবাই অসাধু, অনৈতিক উপায়েই অর্থ উপার্জন করে… এটাই আসল কথা। কোনো সমাজে যদি সুশৃঙ্খল শাসন ব্যবস্থা বিরাজ না করে তাহলে ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য বিষয়গুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যা আমাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। মানুষের মাঝে সুস্থ-স্বাভাবিক চিন্তার পরিবর্তে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আরও আছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর কারসাজি। আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিষয়গুলোতে তারা খুব স্থূলভাবে বাণিজ্য ঢুকিয়েছে। ফলে সাংস্কৃতিক চেতনার উন্মেষ ঘটানোর পরিবর্তে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
একজন নয়ন বন্ড এমনি এমনিই সৃষ্টি হয়নি বা একদিনেই দানব হয়ে উঠেনি। এর পেছনে দায় ছিলো পরিবারের, গড ফাদারের, প্রতিষ্ঠানের, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এবং আরও বেশকিছু অনুষঙ্গ যুক্ত ছিলো। বিশ্বজিৎ খুনেও একই কথা প্রযোজ্য। কারও ভেতর যখন ন্যূনতম মূল্যবোধ থাকে না এবং ভাবে, আইন তার কিছুই করতে পারবে না, তখন তার দানব হয়ে উঠা অতি সহজ হয়ে যায়। মানুষ হতে হলে দরকার একটা অতি মানবিক মন… যা অনেক কিছু দিয়ে লালন করতে হয়, কোটি টাকা দিয়েও কিনতে পাওয়া যায় না। এই মনের উৎস কেবল হৃদয়ের গভীরে, খুব গভীরে… যেখানে পৌঁছতে গেলে শুধুই মানুষ হতে হয়। সংক্ষিপ্ত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]