• প্রচ্ছদ » » আমার শহরের রথের মেলা : নিখোঁজ এক রূপকথা


আমার শহরের রথের মেলা : নিখোঁজ এক রূপকথা

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

আমার শহরে রথযাত্রা শুরু হয়েছে দুদিন আগে, সপ্তাহান্তে উল্টোরথ। অথচ ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি মোড় ফাঁকা,শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে পানি নেই, সার বাঁধা আম-কাঁঠালের নৌকা নেই। ছোট্ট রথটি দুপুরে শহরের প্রধান সড়কে কিছুটা পথ ঘুরে এসেছে। কোথাও নেই ঝুমঝুঁমির শিহরণ, কান ঝালাপালা বাঁশির শব্দ নেই, মাটির খেলনার সারবাঁধা পসরা নেই, নিমকি-জিলেপি-হাওয়াই মিঠাইয়ের দোকান নেই। এমন রথের মেলার সাথে আমার শৈশবের রথের মেলা মিলে না।
কেমন করে বদলে যায় সব! মনে হয় এইতো সেদিন, বাবার হাত খুব শক্ত করে ধরে হাজারো মানুষের ভিরে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে,কখনওবা কাঁধে চরে কালিবাড়ির আঙিনায় ঢুকছি। যেখানে হাজারো রঙিন স্বপ্ন। বাঁশের বাঁশি, পিতলের আংটি,পুতুল,মাথা দোলানো মাটির সাধু, আরও কত কি! সেই কালীবাড়ি মোড় আজ ফাঁকা। কালীবাড়ি সড়কে, কেবল দুতিনটি লটকনের দোকান। ঠিক কালীবাড়ি মন্দিরের বিপরীতে ছোট্ট রথ,একা। একাত্তরে এই কালীবাড়ির আঙিনায় পাকহানাদারদের সহযোগিদের হাতে পুড়েছিলো, এর চেয়ে অনেক বড়,কারুকার্যে রাঙানো রথটি। সে সময়ে মন্দিরে কোনো গেট ছিলো না, ছিলো না সিসি ক্যামেরা। এখন সব আছে। শুধু নেই রথের মেলার প্রাণ।
কালীবাড়ি মোড়, আর কালীবাড়িচত্তরই শুধু নয়।এই রথের দিনে পুরো শহর জুড়ে মেলা বসেছে। হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে গমগম করে কেঁপেছে অলিগলি। মাটির হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে আম-কাঠাল, এমনকি পাট পর্যন্ত উঠতো মেলায়। চরকগাছ,বায়োস্কোপ আরও কত কি! বছরজুড়ে পয়সা জমাতাম,কিনতাম শখের জিনিস। শহরের মাঝদিয়ে বয়ে য্ওায়া খাল কানায় কানায় ভরে যেতো অসংখ্য নৌকায়। সবই আজ স্বপ্ন! শুধু এবারই নয়, রথের মেলার প্রাণহীনতা শুরু হয়েছে প্রায় দুই যুগ আগে থেকে। দিন গড়াচ্ছে মরে যাচ্ছে রথ উৎসব। এবারের ছবি আরও করুন,আরও অসহায়ত্বে ভরা, কেন, সবাই জানে সে কথা। আমি শুধু জানি, আমার শৈশবের রথের মেলাটি মরে গেছে। রূপকথার রাজকন্যার মতো হারিয়ে গেছে কালের খেয়ায়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]