‘এনায়, এনার, ওনায়, ওনার’

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

আবুল কাইয়ুম

বাংলা ভাষায় সম্মানিত কাউকে উল্লেখ বা নির্দেশ করার ক্ষেত্রে সর্বনাম পদ হিসেবে ‘ইনি’ ও ‘উনি’ ব্যবহার করা হয়। এই ‘ইনি’ ও ‘উনি’ থেকে সৃষ্ট যথাক্রমে ’এনায়, এনার, এনাদের’ এবং ’ওনায়, ওনার, ওনাদের (উনায়, উনার, উনাদের)’ শব্দগুলো কিন্তু আভিধানিক নয়। এগুলো কথ্য বা আঞ্চলিক ভাষাতেই চালু আছে। কিন্তু শিক্ষিতজন কিংবা যারা সাহিত্যচর্চা করেন তাদের চলতি ভাষায় এমন শব্দের প্রয়োগ না করাই সমীচীন। ফেসবুক থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি (ঈষৎ পরিবর্তিত) ১. এনারা ক্ষমতাবান, তাই তো এনাদের থেকে দূরে থাকি। ২. আমি এনার কাছে চিরঋণী। ৩. ধর্মের দোহায় দিয়ে এনারা যে প্রতিনিয়ত সমাজে বিষবাষ্প ছড়ান তার কী হবে? এনারা তো এটম বোমার চেয়ে ভয়ঙ্কর। ৪. যেদিন থেকে উনার সম্পর্কে জানতে পারি সেদিন থেকে নিজেকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারি। ৫. উনারা আমাদের সাথে এমনভাবে মিশেছেন যেন আমাদের সহপাঠী। ৬. হঠাৎ করে ভাইয়ার ফোনটা বন্ধ, উনাকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। ৭. ওনার শেষ ইচ্ছে ছিলো, বেঁচে থাকতে কন্যার বিয়ে দিয়ে যান। আর তো ফিরে পাবো না ওনাকে। আর ‘তিনি’ ও ‘যিনি’থেকে উদ্ভূত যথাক্রমে ‘তেনায়, তেনাকে, তেনার ও তেনাদের’ এবং ‘যেনায়, যেনাকে, যেনার ও যেনাদের’ শব্দগুলোও বিরল নয়। এগুলোও আভিধানিক শব্দ না। চলতি ভাষায় উল্লেখ বা নির্ণয়সূচক সর্বনাম পদে (উবসড়হংঃৎধঃরাব চৎড়হড়ঁহং) সামীপ্যবোধক নির্দেশকের (ঘবধৎ উবসড়হংঃৎধঃরাব) বেলায় ’এনায়, এনাকে, এনার, এনাদের’ -এর পরিবর্তে ইনি, তাকে, তার, তাদের’ এবং পরোক্ষবোধক নির্দেশকের (ঋধৎ উবসড়হংঃৎধঃরাব) বেলায় ওনায়, ওনাকে, ওনার, ওনাদের (উনায়, উনাকে, উনার, উনাদের) পরিবর্তে উনি, তাকে, তার, তাদের লেখা সংগত হবে। সামীপ্যবোধক ও পরোক্ষবোধক— এ উভয় ক্ষেত্রেই ‘তার’ ও ‘তাদের’ প্রচলিত।
বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কথ্য বুলি তাদের প্রাণের ভাষা। একজন শিক্ষিত মানুষ নিজ এলাকার আরেকজন মানুষের সাথে তার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। আর তিনি অন্য অঞ্চলের কারও সাথে কথা বলতে চলতি ভাষা বা চলতির কাছাকাছি ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু তিনি যা কিছু লেখেন তা সাধারণত চলতি ভাষাতেই। এখনকার সাহিত্যের ভাষাও এই চলতি ভাষা, সাধু ভাষায় লেখালেখির প্রচলন আর নেই বললেই চলে। সাহিত্যে চলতি ভাষার সাথে সাধু বা আঞ্চলিক ভাষার শব্দাবলীর মিশ্রণ কাম্য নয়। তবে স্বতন্ত্রভাবে আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষায় রচিত সাহিত্যও অল্পস্বল্প পরিদৃষ্ট হয়, তা আবার ঠিক আছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]