• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » কৃষকদের  আর ১০ হাজার ব্যাংক হিসাব যোগ হলেই এক কোটির মাইলফলক অর্জন হবে


কৃষকদের  আর ১০ হাজার ব্যাংক হিসাব যোগ হলেই এক কোটির মাইলফলক অর্জন হবে

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

রমকজান আলী : মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের হিসাব খুলতে প্রথম ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। ব্যাংকসেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে এ সেবার মধ্যে আনতে মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা শুরু হয়েছিলো ৯ বছর আগে। সেই থেকে দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোতে কৃষকদের খোলা ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংরক্ষণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওই কার্যক্রম শুরুর পরপরই দেশের বেশিরভাগ কৃষক ব্যাংকে হিসাব খুলতে সক্ষম হন। প্রথম ছয় বছরের মধ্যে এ ধরনের হিসাব ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর কৃষকদের হিসাব সংখ্যা ৯৯ লাখে উন্নীত হতে সময় লেগে যায় আরও আড়াই বছর। চলতি ২০১৯ সালের মার্চ শেষে এ খাতের মোট পুঞ্জীভূত হিসাবসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ লাখ ৯০ হাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে কৃষকদের খোলা হিসাবসংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৬টি। ২০১৮ সালের মার্চে এই সংখ্যা ছিলো ৯২ লাখ ২২ হাজার ৫৬০টি। এক বছরে হিসাব বেড়েছে সাত লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৬টি বা আট দশমিক ৩২ শতাংশ। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কৃষকদের নতুন হিসাব বেড়েছে এক লাখ তিন হাজার ৫৯টি বা এক দশমিক শূন্য চার শতাংশ। এর আগে ২০১৫ সালে তথ্যগত বিভ্রাটে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ওই বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কৃষকদের হিসাবসংখ্যা এক কোটি তিন লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৩টি। ওই প্রতিবেদনের পরবর্তী সংখ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিলো, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য নিতো। পরে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ওই তথ্য নিতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন তথ্যে দেখা যায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে কৃষকদের পুঞ্জীভূত মোট হিসাব ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৬টি। তথ্যে সঠিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও ওই প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছে।

তবে ২০১৬ সালের পর থেকে কৃষকদের হিসাব বৃদ্ধির গতি কিছুটা থমকে ছিলো। হিসাবসংখ্যা ৮৫ লাখ থেকে ৯৩ লাখে উন্নীত হতে সময় লেগে যায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। গত ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭-এ উন্নীত হয়। মার্চে এসে এখন সেটা এক কোটি ছুঁইছুঁই করছে।

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের দেয়া ভর্তুকি জমা ছাড়াও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ১০ টাকায় খোলা কৃষকের হিসাবের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ সুবিধাযুক্ত এসব হিসাবে সাধারণ ব্যাংক হিসাবের মতো অভ্যন্তরীণ ও দেশের বাইরের রেমিট্যান্স পাঠানো এবং অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। এসব হিসাবে ন্যূনতম স্থিতি রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ব্যাংক সেবা নেয়ার জন্য গ্রাহককে কোনো সেবামাশুল গুনতে হয় না।

এদিকে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয়ার পরপরই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী, অতিদরিদ্র, মুক্তিযোদ্ধাসহ ব্যাংকসেবার বাইরে থাকা ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠীকে সহজ শর্তে ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ১০ টাকার পরিবর্তে ৫০ ও ১০০ টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেয়া হয়।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় খোলা এসব হিসাবসংখ্যা বর্তমানে এক কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৪৭টি। এর মধ্যে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের হার ৫২ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির হিসাব ২৭ শতাংশ। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির হিসাব ১৪ শতাংশ। মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাব এক শতাংশ। অন্যান্য হিসাব ছয় শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে মোট পুঞ্জীভূত জমার পরিমাণ ছিলো ২৭৬ কোটি টাকা। কৃষকদের এসব হিসাবের মধ্যে ২১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬টি হিসাবে সরকারের দেয়া ভর্তুকি বিতরণ করা হয় এবং ৪৭ হাজার ৯৭৩টি হিসাবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে কৃষকদের এ পর্যন্ত ২৯০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৩৪৪টি হিসাবে বৈদেশিক রেমিট্যান্স জমা হয়েছে। জমার পরিমাণ প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। দুই কোটি হিসাবে জমা ২ হাজার কোটি টাকা। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]