• প্রচ্ছদ » » কোপাকুপি, ভিডিও, বাঁশ এবং ন্যায়বিচার


কোপাকুপি, ভিডিও, বাঁশ এবং ন্যায়বিচার

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

বেশ কদিন ধরে দেখলাম গণমাধ্যমগুলো বাঁশ নিয়ে মেতেছে। নির্মাণকাজে বাঁশের ব্যবহার ক’দিন খুব জায়গা পেয়েছিলো গণমাধ্যমে। এখন রেলপথে বাঁশের ব্যবহার নজর কাড়ছে সবার। কালের কণ্ঠ শিরোনাম করলো, ‘ঢাকার রেলপথেও বাঁশ’। সময় টোয়েন্টিফোর জানালো, টাঙ্গাইলের রেল সেতুতে লোহার নাটের পরিবর্তে বাঁশের গোজ!’ এনটিভি অনলাইন বললো, ময়মনসিংহের রেলসেতুগুলোতে বাঁশ ব্যবহারের কথা। সুতরাং ‘বাঁশ’ আমাদের সব কিছুতেই একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই যে, কোপাকুপি, গোলাগুলি, নিখোঁজ, হত্যা এতো সব জ্বলন্ত ইস্যুর মাঝেও কিন্তু ‘বাঁশ’ তার জায়গা ছাড়েনি। এর আগে বিল্ডিং, রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণে বাঁশের ব্যবহার ছিলো হরহামেশাই। এসব নিয়ে খবর করতে করতে গণমাধ্যমগুলো ক্লান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু নির্মাতারা ক্লান্ত হননি। তারা বাঁশ ব্যবহার করেই গেছেন। ক্ষেত্র বিশেষে বাঁশ ব্যবহারের পক্ষে মৃদু সাফাইও দিয়েছেন কেউ কেউ। যার ফলে উৎসাহ হারাননি ব্যবহারকারীরা। উল্টো খবর করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলো গণমাধ্যমগুলো। তবে রেলপথে বাঁশ ব্যবহার তাদের আবার কিছুটা চাঙ্গা করেছে।
আমার ছেলে সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা, যে ফাগুন রেজা নামেই পরিচিত। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টসহ অন্যরা জানেন সে খুন হয়েছে। পিতা যেহেতু স্বভাবতই ছেলের কথা আমার লেখায় উঠে আসবেই। ওকে নিয়ে বেশ কয়েকটা লেখা রয়েছে আমার। হঠাৎ একজন বললেন, ভাই নতুন কিছু নিয়ে লিখেন। উত্তরে বলেছিলাম, নতুন অবশ্যই লিখবো, পুরানোটাকে ভুলে গিয়ে নয়। তানিয়া খুন হয়েছেন তার কথা লিখবো, পাশাপাশি মনে করিয়ে দেবো তনু, মিতু, আফসানার কথা। যেমন ফাগুনের কথা লিখতে গিয়ে আমি বরাবরই লিখেছি সাগর-রুনির কথা। বলেছি মেঘ মা-বাবাহীন, আর আমি সন্তানহীন। আমাদের দু’জনের নিয়তিই এক।
দুই. তবে ইস্যুকে চাঙা করে তুলতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো একটি ভিডিও ক্লিপ। সঙ্গে শর্ত ক্লিপটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে হবে। তবেই নজরে আসবে সবার। নড়েচড়ে বসবে রাষ্ট্রযন্ত্র। রিফাতের ভিডিও ক্লিপ ছিলো বলে, রাষ্ট্রযন্ত্র এতো দ্রæত ‘মুভ’ করেছে। নুসরাতকেও সামাজিক মাধ্যম ভাইরাল করেছিলো বলেই তার খুনে অভিযুক্তরা জেলে। কিন্তু জান্নাতির ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। তার শরীরের সঙ্গে কপালও ছিলো পোড়া। ভাইরাল না হওয়ায় তার মৃত্যু কাউকে তেমন নাড়াতে পারেনি। দুই বাসের প্রতিযোগিতায় হাত হারানো রাজীবের মৃত্যু সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হবার কারণে যতোটুকু আলোচনায় এসেছিলো, প্রতিদিন এমন অসংখ্য রাজীবের মৃত্যু কিন্তু কারো গাত্রোত্থান ঘটায় না। কিছুদিন আগে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটিতে এক ছাত্রকে মেরে বাস থেকে নদীতে ফেলে দিয়েছিলো বাস চালক-সহকারীরা। সে ঘটনাও কিন্তু মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। মাধ্যমগুলোতেও কোনো ফলোআপ নেই সেই ঘটনার। হয়তো তাকে মেরে ফেলে দেয়ার ভিডিও থাকলে ঘটনাটি আরও অনেকদূর এগোতো। ভিডিও থাকা এবং সেটা ভাইরাল হওয়াটা এখন হত্যার চেয়েও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। এমনকি বিচারের দাবির ক্ষেত্রেও!
অবশ্য বিচারের প্রশ্নে এখন মানুষ ‘মব জাস্টিসে’র দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েছে বলে মনে হয়। যেমন রিফাত হত্যার অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বিষয়ে একজন লিখলেন, ‘তাকে ক্রসফায়ারে না দিলে সকল ক্রসফায়ারই নাকি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে’, অনেকটা এমন কথা। অর্থাৎ মানুষের ভেতর ন্যায়বিচার পাওয়াটা নিয়ে একধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]