টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধস, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

এম. আমান উল্লাহ, কক্সবাজার : টানা প্রবল বর্ষণে রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধসে বেশ কিছু ঝুপড়ি ঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কিছু রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হলেও বড় ধরনের তেমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শুধু তাই নয়, বর্ষণের ফলে রোহিঙ্গা বসতির ত্রিপলের ছাউনি থেকে পানি পড়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তারা । সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ। এদিকে, বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গারা। যে কোনো সময় আরো বড় ধরনের পাহাড় ধস ও বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা যায়, টানা প্রবল বর্ষণে হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুল (২১) ও পুটিবনিয়া (২২) রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ে ও পাদদেশে যে সব রোহিঙ্গাদের বসতি রয়েছে তারা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানান, গাছপালা না থাকায় এবং মাটি নরম হওয়ায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুটিবনিয়া ক্যাম্পের ছোট-বড় ৩০টির বেশি রোহিঙ্গা বসতির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ডি বøকে তৈয়বার বাড়িসহ একাধিক বাড়ি মাটিতে ঢেকে যায়। ডি বøকের আমিন মাঝি জানান, তাদের ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় কয়েকজন নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে।
এ দিকে চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরের প্রধান মাঝি জাবের জানান, পাহাড়ের টিলায় ২০টি ঘর ধসে পড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির তালিকা করে ক্যাম্প ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে।
অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ফলে আতঙ্ক-শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন তারা। তারা জানান, এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তারা আত্মীয় স্বজন ও পার্শ্ববর্তী স্কুল-মাদ্রাসায় অবস্থান নেবেন। জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ৩৪টি ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে বাস করছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের বেশিরভাগই পাহাড়ের টিলায় ঝুপড়ি ঘর করে বসবাস করছেন। বর্ষণ বেশি হলেই পাহাড় ধসের আশঙ্কা বাড়বে। টানা বর্ষণের কারণে গত দুদিনে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি অনেক ঝুপড়ি ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে কক্সবাজারে। চলমান বর্ষা মৌসুমে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও হাল্কা থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে সে সব ঝুপড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা দ্রæত মেরামত করে দেয়া হবে। পাশাপাশি এসব রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। এ ছাড়া যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]