• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বোরো মৌসুমে কৃষকের মাঠে যাচ্ছে অধিক ফলনের পানি সাশ্রয়ী ব্রি ধান


বোরো মৌসুমে কৃষকের মাঠে যাচ্ছে অধিক ফলনের পানি সাশ্রয়ী ব্রি ধান

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

মতিনুজ্জামান মিটু : আমন ও বোরো মওসুমে চাষের উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এগুলো হলো রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান৯০ ও বোনা  আমনের জাত ব্রি ধান৯১ এবং বোরো মওসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান৯২ । পানি সাশ্রয়ী বোরো জাত ব্রি ধান৯২এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম। তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান২৯ এর সমান ফলন পাওয়া যায়। সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায় সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। এ জাতের কাÐ শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া । লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা এ জাতের গাছের কাÐ শক্ত তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৬ ভাগ। ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

গাঢ় সবুজ রঙের ডিগপাতা খাড়া এ গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রæত বর্ধনশীল ব্রি ধান৯১। ধান গাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিষ্ণু। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কাÐ পরে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা।  এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়। ব্রি ধান ৯১ এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। স্থানীয় দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা, বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর, ফুলকুরি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি জলি আমনের জাতে ব্রি ধান৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়। এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মাট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বাড়বে।

ব্রি ধান৯০ এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫ টন। ফলন আমন মওসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান৩৪ এর চেয়ে হেক্টরে ১ থেকে ১.৪ টন বেশি। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ ধান হালকা সুগন্ধযুক্ত। জীবনকাল ১১৭দিন যা ব্রি ধান৩৪ এর চেয়ে ২১দিন আগাম। এর কাÐ শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় এক সাথে ফোটে বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত হতে পারে।  আশা করা হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে।

ব্রি’র সিনিয়র লিয়াজো অফিসার মো. আব্দুল মোমিন জানান, গত ১৯ জুন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ৯৯তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ইনব্রিড ধানের ৩টিসহ (ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯১ এবং ব্রি ধান৯২) ৫টি ধানের জাত ও ১টি গমের জাত অনুমোদন দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিলিপিন্স থেকে ধান ও গমের সংকরায়নে উদ্ভূত কৌলিক সারি আইআরজিসি১০৩৯১৮ সংগ্রহ করা হয়। এটি




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]