• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » ভারতে চাকরি বাঁচাতে জরায়ু কেটে ফেলছেন হাজার হাজার নারী শ্রমিক


ভারতে চাকরি বাঁচাতে জরায়ু কেটে ফেলছেন হাজার হাজার নারী শ্রমিক

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

সালেহ বিপ্লব : কিছু এলাকা আছে যেখানে গ্রামের পর গ্রাম খুঁজে একজনও নারী পাবেন না, যার জরায়ু আছে। বয়স ধরুন ২০ থেকে ২২, দুই বা তিন সন্তানের মা। সবাই নিম্ন আয়ের শ্রমিক। পিরিয়ড বা মাসিক হলে মালিকের নানা গঞ্জনা শুনতে হয়, বেতন কাটা যায়। জরিমানা হয়। তাই  পেটের তাগিদে, অভাবের তাড়নায় অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দেন এই দরিদ্র নারী শ্রমিকরা। বিবিসি।

সা¤প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো আলোড়ন তুলেছে, তার একটি মহারাষ্ট্রে। হাজার হাজার তরুণী স্বেচ্ছায় জরায়ু কেটে ফেলছেন হাসপাতালে গিয়ে। এত কম বয়সে এই মেয়েগুলো মা হওয়ার যোগ্যতা হারায়, ভাবতে অবাক লাগে।

জরায়ু ফেলে দেয়ার এই জঘন্য কাজ চলছে প্রায় তিন বছর ধরে। যারা এই অপারেশন করিয়ে নিচ্ছেন, তারা কৃষি শ্রমিক। ক্ষেত থেকে আখ কাটেন।

মহারাষ্ট্র ভারতে আখের উর্বর ক্ষেত্র। বছরে ৬ মাস এসব আখ খেতে কাজ করতে আসেন হাজার হাজার শ্রমিক। এই নারীপুরুষরা একটানা ছয় মাস আখ কাটার কাজ করেন। আখ কাটার ঠিকাদাররা এক কোথায় মানুষরূপী জানোয়ার, এরা নানা ছুতায় বিভিন্ন কায়দায় এই শ্রমিকদের ওপর শোষণ নির্যাতন চালায়।

আবার এসব জায়গায় ত্থাকার পরিবেশ একেবারেই জঘন্য, অস্বাস্থ্যকর। ক্ষেতের পাশেই কুঁড়ে ঘর বা তাবুতে থাকে শ্রমিকরা। এই অবস্থায় পিরিয়ড হলে একজন নারী শ্রমিক কঠিন সমস্যায় পড়ে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পিরিয়ডের সময়টা পার করতে করতে তারা ইনফেকশনের শিকার হন। নানা রকম গাইনি সমস্যাও দেখা দেয়। তখন চিকিৎসার নামে অনভিজ্ঞ হাতুড়ে ডাক্তার একের পর এক নারীর সার্জারি করে জরায়ু ফেলে দেন।

গেলো মাসে মহারাষ্ট্রের রাজ্যসভায় নারীদের এই অবমাননাসূচক শারীরিক ক্ষতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন বিধায়ক নীলম ঘোরে। তার কথার সাথে একমত হন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। মন্ত্রী জানান, ৩ বছরে বীদ জেলায় ৪ হাজার ৬শ ৫ টি হাইসটেরেকটমি সার্জারি হয়েছে। এই সার্জারিতে অনেক সময় নারীর প্রজননতন্ত্রের প্রায় সব কিছুই কেটে ফেলা হয়।

পাশবিক্ এই আচরণের আরেক উদহারণ দেখা গেছে তামিল নাড়ু রাজ্যে। সেখানের কাহিনী আরও ভয়াবহ। কোটি ডলারের গার্মেন্টস বাণিজ্য, বিশাল বিশাল কারখানা। অনেক মেয়ে কাজ করে। পিরিয়ডের সময় কাহিল লাগে অনেকের, সেক্ষেত্রে তাদের যেখানে এক  বা দুদিন ছুটি দেয়া উচিত, তা দূরে থাক, উল্টো করে কী, ব্যথা কমানোর জন্য নাম না জানা ওষুধ খেতে দেয়।

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে। তারা কথা বলেছে ভুক্তভোগী ১০০ জনের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, নাম না জানা ওষুধ সেবনের পর সবারই কমবেশি শারীরিক সমস্যা হয়েছে।

এই বিষয় নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতের রাষ্ট্র যন্ত্র। ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন বলেছে, মহারাষ্ট্রের অবস্থা বেদনাদায়ক। এই সব নৃশংসতা বন্ধ করতে বলেছে কমিশন। এই প্রেক্ষিতে তামিল নাড়ু সরকার বলেছে, পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মনিটর করবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]