শুভ জন্মদিন ভিত্তোরিও ডি সিকা

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

বাবলু ভট্টাচার্য

ÔTake the camera out into the streetÕ-এই মন্ত্র নিয়ে ইতালির চলচ্চিত্রে যে নিওরিয়ালিজম বা নয়াবাস্তববাদ আন্দোলন শুরু হয়েছে আর এই আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র বলা হয় ভিত্তোরিও ডি সিকার ‘দ্য বাইসাইকেল থিভস্’কে।
ভিত্তোরিও ডি সিকা বেড়ে উঠেন নেপলেস শহরে। বাবা ম্যানুয়েল ডি সিকা ও মা ক্রিস্টিয়ান ডি সিকার অভাবী সংসারে একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য ছোটবেলাতেই কাজের সন্ধানে নামতে হয় ভিত্তোরিওকে। একটু বড় হয়ে ভিত্তোরিও কেরানির কাজ নেন স্থানীয় একটি অফিসে। ১৯২০ সালের দিকে ভিত্তোরিও চাকরির পাশাপাশি স্থানীয় থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেন।
১৯৪০ সালে ‘মান্দালিনা’, ‘জিরো ফর কনডাক্ট’ দিয়ে ভিত্তোরিও’র চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। এর আগে একই বছর অবশ্য অন্য একজনের সঙ্গে মিলে ‘রজ স্কারলাতে’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। একপর্যায়ে পরিচয় হয় নয়াবাস্তববাদ ধারার আরেক সারথি সিজার জাভাত্তিনির সঙ্গে। মূলত জাভাত্তিনির সঙ্গে পরিচয় ভিত্তোরিও ডি সিকার জীবনে একটা অন্যতম ঘটনা। শুরু হয় চলচ্চিত্র নির্মাণের মহাযজ্ঞ, নাম ‘দ্য চিলড্রেন আর ওয়াচিং আস’ (১৯৪৪)। এখানে ভিত্তোরিও এক অবহেলিত শিশুর চোখ দিয়ে দেখান তার মা-বাবার দাম্পত্য জীবনের টানাপড়েন। পরের বছরই নির্মাণ করলেন ‘দ্য গেইট অব হ্যাভেন’ (১৯৪৫)।
ডি সিকা তার পরের ছবি নির্মাণ করলেন ‘সু-সাইন’ (১৯৪৬)। এবারো সেই সাধারণ মানুষের কথা বললেন চলচ্চিত্রে। ‘সু-সাইন’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। অস্কারে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পায় ‘সু-সাইন’। শুরু হয় নয়াবাস্তববাদ ধারার নতুন এক অধ্যায়।
ইতালির নয়াবাস্তববাদের উৎকৃষ্ট ফসলের বীজ যেন বোনা ছিলো ভিত্তোরিওর ‘দ্য বাইসাইকেল থিভস্’ে। ভিত্তোরিও মূলত যুদ্ধ পরবর্তী ইতালির বাস্তব অবস্থাটা ধরতে চেয়েছিলেন তার চলচ্চিত্রে। তাই ক্যামেরা নিয়ে রাস্তা, কারখানা, বাজার, পতিতালয় সব জায়গায় করলেন ‘বাইসাইকেল থিভস্’ের শুটিং, তুলে ধরলেন ইতালির সাধারণ মানুষের জীবন।
অবশেষে ১৯৪৮ সালে মুক্তি পেলো সিকার বহু কষ্টের ‘দ্য বাইসাইকেল থিভস্’। চলচ্চিত্রটি সাড়া ফেলে দিলো ইতালিসহ সারাবিশ্বে। আবার জিতে নিলো অস্কারের বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার। ‘বাইসাইকেল থিভস্’ে বাস্তবতাকে ধরার জন্য ভিত্তোরিও এমন কোনো দৃশ্য তুলে ধরেননি, যা বাস্তব নয়। মোটকথা এর জন্য তিনি কোনো সেট নির্মাণ করেননি। অপেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বেশিরভাগই ছিলো চলচ্চিত্রটির নানা চরিত্রের মতোই বাস্তবে শ্রমিক।
১৯৫২তে ভিত্তোরিও নির্মাণ করলেন ‘উমবার্ত ডি’। এখানে ভিত্তোরিও একজন বয়স্ক ব্যক্তির একাকীত্ব তুলে ধরলেন। যেখানে ব্যক্তিটির জীবন-যন্ত্রণা, ক্ষোভ ও তার জীবনের শূন্যতা ফুটে উঠে। এই চলচ্চিত্রে সামাজিক প্রেক্ষাপটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মনস্তাত্বিক বিষয়। এই ‘উমবার্ত ডি’কেই নিওরিয়ালিজম ধারার শেষ চলচ্চিত্র মনে করেন তাত্তি¡করা।
ভিত্তোরিও ডি সিকার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ডু ইউ লাইক উইমেন’ (১৯৪১), ‘হার্ট, হার্ট অ্যান্ড সোল’ (১৯৪৮), ‘ইট হ্যাপেন্ড ইন দ্য পার্ক’ (১৯৫৩), ‘দ্য গোল্ড অব ন্যাপেলস’ (১৯৫৪), ‘দ্য রুফ’ (১৯৫৬), ‘টু উইমেন’ (১৯৬১), ‘দ্য লাস্ট জাজমেন্ট’ (১৯৬১), ‘ইয়েস্টারডে, টুডে অ্যান্ড টুমরো’ (১৯৬৩), ‘আ প্লেস ফর লাভার্স’ (১৯৬৮), ‘সানফ্লাওয়ার’ (১৯৭০), ‘দ্য গার্ডেন অব দ্য ফিনজি কনটিনিস’ (১৯৭০), ‘দ্য নাইটস অব মালটা’ (প্রামাণ্যচিত্র, ১৯৭১), ‘আ ব্রিফ ভ্যাকেশন’ (১৯৭৩), ‘দ্য ভয়েজ’ (১৯৭৪)।
ইয়েস্টারডে, টুডে অ্যান্ড টুমরো (১৯৬৩) ও দ্য গার্ডেন অব দ্য ফিনজি-কনটিনিস (১৯৭০) চলচ্চিত্র দুটি অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পায়। শুধু পরিচালনা করেই ক্ষান্ত দেননি ভিত্তোরিও ডি সিকা, অভিনয়ও করেছেন চলচ্চিত্রে। ভিত্তোরিও ডি সিকা ১৯০১ সালের আজকের দিনে (৭ জুলাই) ইতালির সোরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]