স্বাধীনতাবিরোধীদের স্থান যেন আওয়ামী লীগে না হয়

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

এফ এম শাহিন
আমরা আবেগপ্রবণ জাতি হিসেবে প্রমাণ দিয়েছি বারবার। পুরনোকে ভুলে নতুন কিছু করতে হবে, তাতে জন্মদাগ মুছে ফেললেও কারও কিছু আসে যায় না!
আচ্ছা ’৭১ কিংবা ’৭৫-এর পর যেসব মূর্খ আবেগপ্রবণ আওয়ামী কর্মী মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে জীবন দিলো কিংবা পঙ্গু হয়ে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের এখন আর মনে পড়ে না! আহা, পড়বে কেমন করে? আপনারা যে ব্যস্ত সময় পার করেন। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মা কেমন আছে? জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা কেমন আছে? যুদ্ধে অঙ্গ হারানো যোদ্ধারা কেমন আছে, জানতে চাওয়ার সময় কোথায় আপনাদের? আজ যারা এই বিষয় নিয়ে ভাবছেন বা কাজ করছেন, আপনারা তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন নানা অজুহাতে।
আওয়ামী অনেক নেতা চান, যুদ্ধপরাধীদের জায়গা ছেড়ে দিতে। নানা কৌশলে অতীতেও তারা তা দিয়েছেন। এটা করে তারা শুধু ত্রিশ লাখ শহীদের হত্যাকারীই নয়, তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, জাতীয় চার নেতার হত্যাকারী, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, কামাল-জামাল-রাসেল প্রমুখের হত্যাকারী এবং লাখ লাখ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষের হত্যাকারী। তারা এখনো প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা বাঙালি নয়, পাকিস্তানি চেতনার ধারক। তাদের জায়গা ছাড়ার সুযোগ আওয়ামী লীগের আছে?
যারা এমনটা চান, তাদের মনে পড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত দেশি-বিদেশিদের নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিলো? কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছিলো? দেশের মধ্যে কিছু বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদকে কিনতেও অসুবিধা হয়নি তাদের। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধে ঘাতক-দালাল, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করা, বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ বছরের কলঙ্ক মোচন করা ।
আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু আমাদের প্রেরণা ছিলো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের লাখো শহীদের রক্তস্নাত স্বপ্ন, বিশ্বাস আর আত্মত্যাগ। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতায় আমরা ছিলাম ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। শাহবাগে জড়ো হওয়া তরুণদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তঋণ শোধ করতে যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি, স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা। এটি ছিলো দেশের মানুষের দীর্ঘলালিত আকাক্সক্ষা।
দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের পরও বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে আপোসহীন থেকে এক লৌহমানবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বিশ্বমোড়লদের রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একাত্তরের ঘাতক রাজাকারদের ফাঁসি বাস্তবায়ন করতে আদালতকে সহযোগিতা করেছেন। অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ, জন কেরী, হিলারি ক্লিনটন কিংবা জেমস ক্যামেরুনের অনুরোধ উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় কার্যকর করা একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। দেশের ভেতরে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা পুলিশহত্যা থেকে শুরু করে নৃশংস তা-ব চালিয়েছে। ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে মানুষ করেছে, যা আগে মানুষ কখনো দেখেনি। কুখ্যাত খুনি রাজাকার সাঈদীকে চাঁদে দেখার খবর ছড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও সাধারণ মানুষদের। লোভ আর মোহে পড়ে এতো তাড়াতাড়ি সেটা ভুলে যাওয়া আওয়ামী লীগের কাউকে মানায়?
মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের একজন তরুণ হিসেবে জানতে চাই, জাতির পিতার হত্যাকারীদের সঙ্গে কারা আপোস করতে চান? কিসের মোহে তিনবার ক্ষমতায় আসার পরও খুনিদের সন্তানদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে নানা নামে, নানা কৌশলে জায়গা দেয়া কেন এতো জরুরি হয়ে উঠলো? যারা এগুলো ভাবেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত কখনো একাত্তরের খুনিদের রক্তের সঙ্গে মিলতে পারে না। আজ আমাদের কাছে পরিষ্কার, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত যখন শত ষড়যন্ত্র করেও তাদের পাকি আদর্শে বিশ্বাসী পিতাদের রক্ষা করতে পারেনি, তখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছায়াতলে ভিড়ে নতুন পরিচয়ে দেশ ধ্বংসের নীলনকশাও বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে দলের পদ-পদবি দিয়ে নির্বাচনে নমিনেশন দিয়ে তাদের অনেককে কোনো কোনো নেতা পুনর্বাসিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নতুন সদস্যদের পরিবারে কেউ যুদ্ধাপরাধী থাকলে তাদের জায়গা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটাই যেন আওয়ামী লীগের বক্তব্য হয়। যদিও জানি, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবার জন্য জামায়াত ও স্বাধীনতাবিরোধীদের আওয়ামী লীগে জায়গা দেবেন না! আর আমাদের ভরসার জায়গা সেটাই।
লেখক : সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ’৭১




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]