• প্রচ্ছদ » » ২০১৯ ক্রিকেট বিশ^কাপে আমাদের অর্জন আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের ব্যর্থতা বিশ্লেষণ


২০১৯ ক্রিকেট বিশ^কাপে আমাদের অর্জন আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের ব্যর্থতা বিশ্লেষণ

আমাদের নতুন সময় : 07/07/2019

কামরুল হাসান মামুন

২০১৯ ক্রিকেট বিশ^কাপে আমাদের অর্জন অনেক। সাউথ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে এগিয়ে থাকা চারটেখানিক কথা নয়। এই ওয়ার্ল্ড কাপের কারণেই আমরা আমাদের দুর্বলতাও টের পাচ্ছি। দেশের বাইরে খেলার কারণে আমাদের ফাস্ট বোলিং দুর্বলতা এক্সপোজড হয়ে গেছে। আমাদের রুবেলের গতি মোটামোটি আছে কিন্তু গতি একা এনাফ নয়। সঙ্গে ঘিলু থাকতে হয় যেটার প্রচÐ অভাব লক্ষ্য করছি। ঘিলু যে কি গুরুত্বপূর্ণ সেটা তো আমাদের ম্যাশ দিয়েই বুঝতে পারি। ইনজুরির কারণে ম্যাশের গতি কমলেও ঘিলুটা থাকার কারণে এমপি হওয়ার আগে পর্যন্ত বোলিং ভালোই করছিলো। এটাই আমাদের আরেকটি দুর্বলতা যে, আমরা ম্যাশকে তার বেস্ট ফর্মে পাইনি। আমরা ম্যাশকে তার বেস্ট ফর্মে পাইনি কারণ আমাদের সরকার গত নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তাকে হাইজ্যাক করেছে। ম্যাশ খেলাতেছিলো। তখন টার্গেট ২০১৯-এর ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা। ঠিক সেসময় তাকে এমপি বানানোর ফলে তার মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে যা আসা স্বাভাবিক। এই পরিবর্তন সে না চাইলেও আসবে। এছাড়া তার শারীরিক ফিটনেসেও পরিবর্তন এসেছে। গত কয়দিন যাবৎ তাকে টিভি স্ক্রিনে দেখে বোঝা যাচ্ছিলো যে একজন প্লেয়ারের যে রকম মাত্রায় ফিট থাকার কথা সে তেমন ছিলো না। সেটার আছর তার পারফরম্যান্সে পড়েছে। তার আজকের তুলনামূলক খারাপ ফর্মের জন্য সরকার দায়ী। সরকার কি জানতো না যে সামনে আমাদের ওয়ার্ল্ড কাপ। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার মনোজগৎকে তছনছ করা কি ঠিক হয়েছে? বাংলাদেশের জনগণের দলান্ধতার জন্য এমপি হওয়ার পর ওর জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এই জিনিসটিও ওকে ভুগিয়েছে নিশ্চয়ই।
যেই মানুষটি দলমত নির্বিশেষে সকলের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছে সেই একই মানুষের জনপ্রিয়তা রাতারাতি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া এমপি হওয়ার পর ডাক্তারদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছে। তাকে সমালোচনা করার কারণে প্রথিতযশা কয়েকজন ডাক্তারকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে যেটি গার্ডিয়ানের মতো পত্রিকাতেও ‘ইধহমষধফবংযর ফড়পঃড়ৎ রং ংবহঃ ঃড় ৎঁৎধষ পষরহরপ ‘ভড়ৎ পৎরঃরপরংরহম পৎরপশবঃবৎ’ শিরোনাম হয়ে এসেছে। ম্যাশতো এ রকমের ছিলো না। স্বল্প সময়ের এমপিত্বতেই তার মনোজগতের পরিবর্তন এসে গেছে। একজন খেলোয়াড়, বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্ব দেয়া খেলোয়াড় কীভাবে একাধারে একজন এমপি হয় সেটা আজও বুঝতে পারিনি। আমাদের সরকার কতোটুকু স্বার্থপর হলে এমন একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে তার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগেই ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারলো। এই ওয়ার্ল্ড কাপে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া সাকিব আল হাসানের ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হওয়ার সম্ভবনা উজ্জ্বল করা।
সাকিব আল হাসানের নাম এখন ইংল্যান্ডের প্রতিটি সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় এম্বাসেডর। ওকেও নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার কথা উঠেছিলো। একটু কল্পনা করুন তো সাকিবকেও সত্যি সত্যি যদি মনোনয়ন দিত তাহলে আমরা কি আজকের সাকিবকে পেতাম। শতভাগ নিশ্চিত উত্তর ‘না’! থাঙ্কস গড যে শেষ পর্যন্ত ওকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। যদি দিতো তাহলে ভাবুন তো ‘সাকিবও নোই ম্যাশও নেই (পড়ুন ফর্মে নেই) কেমন খেলা হতো? আমার তো ধারণা আমরা তলানীতে থাকতাম। ম্যাশ ফিট না থাকার ফলে আমরা আসলে ১০.৫০ জন নিয়ে খেলেছি। নিঃসন্দেহে মাশরাফি আমাদের আইকন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন সফল ক্যাপ্টেন আসেনি খুব নিকট ভবিষ্যতে যে পাবো তারও লক্ষণ দেখছি না। তারপরও ঞযবৎব ওং ধহ ঊহফ ঃড় ঊাবৎুঃযরহম! আমাদের সবাইকে জানতে হবে লাইনটা কোথায় টানতে হবে। খেলোয়াড়ি জীবনের হাই নোটে থেকে অবসর যেতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি ধরে নিয়েছিলাম এই ওয়ার্ল্ড কাপের মাঝামাঝি কোনো এক খেলায় মাশরাফি অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেবে এবং এটাও প্লেনের একটি পার্ট হওয়া উচিত ছিলো যে তার পরে কে ক্যাপ্টেন্সির হাল ধরবে। তারপরও আমরা মাশরাফির কাছে কৃতজ্ঞ। সে এদেশকে অনেক দিয়েছে। আশা করি এইবার একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আরও অনেক দেবে। দেশে ফিরে তার অজান্তে তাকে সামান্য সমালোচনার জন্য যেই ডাক্তারদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে তাদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]