অহং কী? অহং কি নেতিবাচক?

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

ড. এমদাদুল হক

অহং কি? এক কথায় অহং হলো এন্টি-আমি। এন্টি-আমি কি? যা আমির বিকাশ, প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, তা-ই এন্টি-আমি। থিসিস বিরুদ্ধ থিসিস যেমন এন্টি-থিসিস, তেমনি আমি বিরুদ্ধ আমি হলো এন্টি-আমি। অখÐ আমি-থিসিস। খÐ আমি-এন্টি-থিসিস। এক আমি-থিসিস। বহু আমি-এন্টি-থিসিস। র র র র র র র- এন্টিথিসিস। ও-থিসিস। এন্টি আমি, আমির মতোই; কিন্তু আমি না-নকল আমি, ছায়া আমি, ক্ষুদ্র আমি, সংকীর্ণ আমি। আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, আমি হানাফি, আমি সুন্নি, আমি চিশতিÑএন্টি-থিসিস। আমি মানুষ-থিসিস। থিসিস আত্মার প্রকৃতি-এন্টি-থিসিস ব্যক্তিত্বের মুখোশ। হাজার হাজার বছরের মগজ ধোলাইয়ে গড়ে উঠেছে এন্টি-আমি। তাই এখন এন্টি-আমিকেই ‘আমি’ মনে হয়। মানুষের সব সমস্যার মূলে রয়েছে তারই এন্টি-আমি, অহং। মানবজাতির অসুস্থতা, বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ, ক্ষুধা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী হলো প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে সক্রিয় এন্টি-আমি। এন্টি-আমির লক্ষ্য-অর্থ-সম্পদ, নাম, কাম, দেহবল-লোকবল, প্রভাব-প্রতিপত্তি। আমির লক্ষ্য- প্রেম, জ্ঞান, শ্রদ্ধা, ভক্তি, শান্তি, আনন্দ, একত্ব। আমি সহযোগিতা করতে চায়। এন্টি-আমি চায় প্রতিযোগিতা। যদি কখনো এন্টি-আমি সহযোগিতা করে, তবে সহযোগিতাকেও প্রতিযোগিতার বিষয় বানিয়ে ফেলে। দেহের জন্ম আছে, মৃত্যু আছে, সুখ আছে, দুঃখ আছেÑযখনই আমরা দেহ মন ইন্দ্রিয় কিংবা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে ঐকাত্ম্য প্রকাশ করি তখনই প্রকৃত আমিকে হারিয়ে ফেলি এবংএন্টি-আমির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ি।
শিশু যখন ব্যক্ত করতে শুরু করে ‘এটি আমার খেলনা’, ‘এটি আমার কলম’, ‘এটি আমার বই’ তখন থেকেই এন্টি-আমি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমার দেহ, আমার মন, আমার চিন্তা, আমার স্মৃতি, আমার আবেগ, আমার বাড়ি এভাবে ‘আমার আমার’ করতে করতে এন্টি-আমি বলবান হতে থাকে। এন্টি-আমি বা অহং থেকে উৎপন্ন হয় তুমি-আমি পার্থক্যবোধ। পার্থক্যবোধ থেকে হিংসা। হিংসা থেকে সংঘর্ষ। অহংয়ের সীমানা ভেঙে গেলে প্রত্যেকেই অসীম। অহং ছাড়া প্রত্যেকেই একÑমহাবিশ্বের সঙ্গে এক, পরমাপ্রকৃতির সঙ্গে এক। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]