এরশাদ কোমায়, জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিশ্চয়তা-অনিশ্চয়তার দোলাচলে

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

বিশ্বজিৎ দত্ত : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহম্মদ এরশাদ আর রাজনীতিতে ফিরে আসছেন না এটা প্রায় নিশ্চিত। বয়স ও রোগ দুটিই এরশাদকে কাবু করে ফেলেছে। তিনি গত ২৬ জুন থেকে সিএমএইচএ চিকিৎসাধীন আছেন। জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ এই সময়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এরশাদের যে রোগ তা সারার যোগ্য পর্যায়ে নেই। তাকে বিদেশেও চিকিৎসার জন্য নেয়া যাচ্ছে না। তিনি বস্তুত কোমায় রয়েছেন। এরমধ্যে এরশাদের কবরস্থান কোথায় হবে এ নিয়েও নেতারা কথা বলেছেন। এরশাদের হাসপাতাল বেডের পাশে রওশন এরশাদ কোরান শরীফ পড়েছেন। এরশাদের সম্পদের বিষয়েও এরশাদ আগেই ভাগবাটোয়ারা করেছেন বলে জানা গেছে। দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে কিছু সমস্যা থাকলেও তার অবর্তমানে কে জাতীয় পার্টির হাল ধরবেন এ বিষয়টাও প্রায় নিশ্চিত। সব মিলিয়ে একটি এরশাদ যেভাবে দল ও সম্পদ গুছিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে এরশাদ আর রাজনীতিতে ফিরে আসছে না।
গতকাল জাতীয় সংসদের বিরোদী দলীয় উপনেতা এরশাদের স্ত্রী রওশান এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানাগেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রওশান এরশাদের কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে রওশন ঘনিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, রওশন জাতীয়পার্টির এরশাদ পরবর্তি রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই আলোচনার মধ্যে রয়েছে যদি এরশাদ মারা যান তবে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান কে হবেন।আবার জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে জিএমকাদেরই থাকবেন কিনা।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন. এরশাদের কবরস্থান থেকে শুরু করে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ এরশাদ পরবর্তি সময়ে অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এরশাদকে কবরস্ত করার কথা ছিল রংপুরে। কিন্তু এখন শুনছি তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ঢাকাতেই তার কবর হউক। এরশাদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট সরকারের রয়েছে। এরশাদ মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হতে পারেন তার ভাই জিএম কাদের। কারণ তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন। তিনি যদি চেয়ারম্যান হন তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে নাও থাকতে পারেন। কারণ তিনি সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। আবার সংসদে বিরোধী দলের নেতার পদ নিয়ে জিএম কাদেরও রওশন এরশাদের মধ্যে টানাটানি রয়েছে। দলের মহাসচিবের পদ নিয়েও সমস্যা রয়েছে। একদিকে রয়েছেন মশিউর রহমান রাঙা। অণ্যদিকে রুহুল আমীন হাওলাদার। দলেও রয়েছে দুটি মত। এক পক্ষ এগুতে চাচ্ছে জিএম কাদেরকে সামনে নিয়ে আরেক পক্ষ এগুতে যাচ্ছে রওশনকে সামনে নিয়ে এগোতে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে রওশন এরশাদের একরকমের বোঝাপড়া রয়েছে। এই হিসাবে এরশাদ পরবর্তি সময়ে রওশান এরশাদই হয়তো জাতীয় পার্টির হাল ধরবেন। আবার জাতীয় পাটি বিরোধী দলের ভ’মিকা নিয়ে জিএম কাদেরের নেতৃত্বেই এগুবেন। সব কিছুই আসলে এখনো অনিশ্চিত।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]