• প্রচ্ছদ » » নয়া জমানা, নয়া তরিকা, নয়া তত্তে¡র সোনার বাংলা


নয়া জমানা, নয়া তরিকা, নয়া তত্তে¡র সোনার বাংলা

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

ফেরদৌস আমান

ক. বিশ্বখ্যাত ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ বলছে, ‘গেøাবালাইজেশন মারা গেছে।’ দেশে দেশে এখন দুই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখা যাবে : ১. বাজার নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, সমাজ, ও রাষ্ট্র… যাকে বলা হচ্ছে ‘লেভেলারস’ এবং ২. রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, সমাজ, ও অর্থনীতি… যাকে বলা হচ্ছে ‘লেভিয়াথান্স’। ভারত, চীন, রাশিয়া, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকার দেশগুলোতে এই ‘লেভিয়াথান্সেরই’ জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও যে ‘লেভিয়াথান্সের’ পথেই হাঁটছে সেটা প্রমাণ করার জন্য তো আর হাইপোথিসিস টেস্ট করার দরকার নেই। লট-বহরসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং ইনভেস্টমেন্টের জন্য অনুনয়-বিনয় ‘লেভিয়াথান্সের’ পক্ষেই যায়। তার এবারের সফরটি আরও পাঁচ বছর আগেই ডিউ ছিলো। বছরে ১১ বিলিয়নের বাণিজ্য ঘাটতি রেখেই চীনকে আমাদের পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ি, পোর্ট ইত্যাদি দিয়ে দেয়া উচিত হয়নি। এবারের সফরে তাকে যেসব বার্গেনিং করেছেন সেটা আরও আগেই করা উচিত ছিলো। যাক সেটা করেছেন তারা রাজনৈতিক খপ্পরে পড়ে। এখন ১০০টা নতুন ইপিজেড থেকে ১০টা চীনকে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জোরালো সমর্থন করছি, কিন্তু তার আগে চীন বলুক, আমাদের আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবেলায় সে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
দাদাগিরির হেজিমনি থেকে আমাদের ইজ্জত সম্মান রক্ষায় এগিয়ে আসবে। খ. ‘দিনের ভোট রাতে হয়েছে’ এই বলে বলে নয়া জমানায় নয়া রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। বিএনপি-বাম রাজনৈতিক দলগুলোর বসা উচিত তাদের পরবর্তী কার্যক্রম নতুন আঙ্গিকে কীভাবে ঢেলে সাজানো যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করতে। নতুবা নয়া জমানার ‘লেভিয়াথান্সরা’ কিন্তু বসছে তো বসছেই, এরা যাবে অন্য ‘লেভিয়াথান্সরা’ আসবে। ফলে ক্ষমতায় যাওয়ার শখ আপনাদের জন্য সুদূর পরাহত হয়ে উঠতে পারে। মনে রাখবেন লেভিয়াথান্সরা এখানে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যেই বিনিয়োগ করে ফেলেছে এবং সরকারের ভেতরে এরা ঢুকে পড়েছে (হুজুররা)। আমার ধারণা এই হুজুররা আরও কয়েকশো বিলিয়ন ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসবে চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। এই দেশগুলো উন্নত হয়ে যাওয়ায় তার সব ফ্যাক্টরি আমাদের দেশগুলোতে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে।
গ. শুধু নয়াপল্টন আর পুরানা পল্টনের অফিসের চিপায় বসে বসে গুঁতোগুতি করে চেহারা দেখানো সাংবাদিক সম্মেলন করে এই নয়া জমানার নয়া অর্থনীতি সামাল আপনারা দিতে পারবেন না। মোর্শেদ খানের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়ে বিদেশির মন জয় করতে চান আপনারা? (এই ভদ্রলোক ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহু দেনদরবার করে দেখা করার সুযোগ নেন এবং পুরো একঘণ্টা সময় ধরেই একটা বিষয় নিয়েই দরবার করেন আর সেটা হলো তার ব্যাংকের একটা শাখা বোম্বেতে খোলার অনুমতি। সেই অনুমতি তিনি পেয়েছিলেন, কিন্তু তার দেশ এবং দলের কোনো দাবি তার কাছে বড় হয়ে উঠেনি! ওই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন একজনের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা আমাকে বলেছিলেন বহু আগে)। ঘ. (ঞড় যিড়স রঃ সধু পড়হপবৎহ) ঠাÐা মাথায় বসেন, লোকজনকে ডাকেন, বিদেশি অধ্যাপকদের নিয়ে আসেন। অনেক বিশ্ব বিখ্যাত থিংক ট্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ভাবে। তাদের নিয়ে আসুন। এরা আপনাদেরও বুদ্ধি দিয়ে যাবে আবার এই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে যাবে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মার্কা বুদ্ধিজীবী দিয়ে নয়া জমানার বিপ্লব হবে বলে মনে হয় না। লেভিয়াথান্সের উপদেষ্টারা বয়সে অনেক তরুণ তাদের থিংক ট্যাংকরা দুনিয়ার খোঁজ-খবর রাখে এবং সব ব্যাপারেই ওস্তাদগার! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]