• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, অবস্থা পরিবর্তনে আইনের পাশাপাশি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ সচেতন মহলের


বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, অবস্থা পরিবর্তনে আইনের পাশাপাশি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ সচেতন মহলের

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

ইয়াসমিন : রাজধানীর ওয়ারীতে শুক্রবার বিকালে ৬ বছরের ছোট্ট সামিয়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শুধু সায়মা নয় প্রতিদিন দেশে ধর্ষণের শিকার এবং হত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। কি ঘরে, কি বাইরে শিশুরা আপনজন, শিক্ষকসহ পরিচিত অপরিচিতজনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন-ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে ধর্ষণের আইন কঠোর করার পাশাপাশি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি জোর দিচ্ছেন সমাজের সচেতন মহল।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, গত ছয় মাসে দেশে ৩শ ৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে। অন্তত ৪৯ জন শিশু (এদের মধ্যে ২ জন ছেলে শিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে ২শ ৭৬ শিশু হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ৫৩ জন। উত্যক্তকারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১শ ১০ জন, প্রতিবেশী ধর্ষণ করেছে ১শ ২ জনকে, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৩৭ জন এবং শিক্ষক সতের জনকে ধর্ষণ করেছে।

শিশু সংগঠন খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রুনু আলী বলেন, এখন শিশু ধর্ষণ এমন সংক্রামক হয়েছে যে এখন ভয় লাগে কে আমার ভাই, চাচা আমার মেয়েকে আদর করতে গিয়ে ক্ষতি করবে বোঝা কঠিন। পরিবারে, স্কুল, মাদ্রাসায় কোথাও আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ না। আমরা খেলাঘর থেকে বলছি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমরা সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজটাকে পরিবর্তন করতে চাই। এখনকার অবস্থায় আমাদের শিশুদের কোন শৈশব নেই। আছে আতঙ্ক। তিনি বলেন, শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবক স্থির থাকতে পারছেনা। এখন একটা শংকার পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অভিভাবকরা অস্থির সময় কাটাচ্ছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সাংস্কৃতিক উপায়ে যা করা দরকার সবকিছু করছি।

শিশুতোষ গল্পলেখক জ্যোৎ¯œালিপি বলেন, শিশু ধর্ষণ বন্ধে কঠোর আইন করা প্রয়োজন এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। আর গণমাধ্যমেরও এ বিষয়ে করণীয় আছে। গণমাধ্যম বিশেষকরে স¤প্রচার মাধ্যম সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে। পরিবার তো বটেই  স্কুলগুলোতেও শিশুদেরকে সচেতন করে তুলতে তার নিজের শরীর সম্পর্কে এবং স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আরেকটা বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে আমি মনে করি, তা হলো,  আমাদের দেশে যে ওয়েবসাইটগুলো নেতিবাচক বিষয় এবং পর্ণগ্রাফি বা এ সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রচার করে তা বন্ধ করা। আর ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য পরিবার থেকেই মা-বাবা তাদের সন্তানদেরকে মানবিক মানুষ করে গড়ে তুললে অপরাধ থাকবে না। ছেলে শিশুরা বেড়ে উঠবে নারীবান্ধব হয়ে। আর এ জন্য স্কুল থেকেই সহশিক্ষাটা জরুরি বলে মনে করি।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, এখন যে অবস্থা চলছে তার জন্যে পুরুষকেই ঠিক হতে হবে। এখন স্বল্পশিক্ষিত মানুষ সারাক্ষণ ইউটিউবে, ফেসবুকে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও দেখছে। তাদের মধ্যে এসব কারণে যৌন বিকৃতির সৃষ্টি হচ্ছে। আবার, নারীরা বিভিন্নক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছে। এটা মানসিকভাবে অনেকে মেনে নিতে পারছেনা। তার একটা আক্রোশেরও বহি:প্রকাশ এটা হতে পারে। মায়েদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আমি ছেলের মা এমন একটা চিন্তা বয়ে বেড়াচ্ছে। যেন উনি মেয়ের মা তাই আমার চেয়ে দূূর্বল, এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। মা-বাবা দুজনকেই ছেলে সন্তানকে বোঝাতে হবে, কোন মেয়ে কি ধরণের পোশাক পরল সেই আলোচনা যেন ছেলে না করে? এগুলো পদক্ষেপ আমাদের দীর্ঘমেয়াদে নিতে হবে। আর এখন ধর্ষণ বন্ধে কঠোর আইন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের প্রত্যেক স্তরে আন্দোলন প্রয়োজন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]