• প্রচ্ছদ » » বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা কমিটির ধরন কেমন হওয়া উচিত?


বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা কমিটির ধরন কেমন হওয়া উচিত?

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

মাসুদ-উর রহমান

কিছুদিন ধরে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করার যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। এর প্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনাও হয়েছে। কোনো পক্ষ বলছেন, ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি আবার কোনো পক্ষ ডিগ্রি। আবার কারও কারও মতে শিক্ষিত হওয়ারই দরকার নেই। যেমন আছে তেমনি চলতে থাকুক। যোগ্যতা নির্ধারণের এই দাবিটি অভিভাবক ঐক্য ফোরামের। কিন্তু কেন? একটা কারণ হতে পারে যে, অভিভাবকদের মাঝে মধ্যে স্কুল-কলেজে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে মূর্খ সভাপতি-সদস্যের মুখোমুখি হতে হয়, হজম করতে হয় তাদের আস্ফালন। তাদের ধারণা শিক্ষিত হলে হয়তো আস্ফালনের ধার কিছুটা কমবে,আচরণ কিছুটা মোলায়েম হবে। তবে আমার কিন্তু তা মনে হয় না। আস্ফালনের প্রকৃত কারণ তো আসলে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, প্রতিষ্ঠানের কোষাগার! তাছাড়া মূর্খ চোরের চাইতে শিক্ষিত চোর বেশি বিপজ্জনক। দেশের ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের ব্যাপারে সাধারণ শিক্ষকরা কথা বলতে পারেন না, কেননা উক্ত আয়-ব্যয় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অসীম আয়কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কখনো রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে, কখনোবা লাখ লাখ টাকা খরচ করে সমাজের কিছু অর্থলোভী মানুষ কমিটির সভাপতি-সদস্য হয়ে থাকে। খুবই সরল প্রশ্ন… অবৈতনিক এই পদের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করার পেছনে যুক্তি কি? যুক্তি একটাই, তা হচ্ছে আর্থিক অনিয়ম সাধন করা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা নিয়ে এদের কোনো ভাবনা নেই, সারাক্ষণ নজর পড়ে থাকে কেবল কোষাগারের দিকে। সাধারণ শিক্ষক মুখ খুললে, প্রতিবাদে এগিয়ে এলে শুরু হয় তদন্ত কমিটি তদন্ত কমিটি খেলা। মিথ্যা ও বানানো অভিযোগ দিয়ে সেই শিক্ষককে অপমান, হয়রানির পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্তসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার নজিরও আমরা পর্যবেক্ষণ করে থাকি।
গত বছর ভিকারুননিসার ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যা এবং সম্প্রতি নুসরাত হত্যার মতো অনেক অনিয়ম অব্যবস্থাপনার পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়ের সম্পর্ক। এই আর্থিক অব্যবস্থাপনার উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কমিটি যেনতেনভাবে আয়ের বিপরীতে একটা ব্যয় দেখাতে পারলেই যেন সাতখুন মাফ। এটি কোনো কথা হলো? অথচ স্কুল-কলেজের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতভাগ বেতন সরকার দিচ্ছে। তাহলে তাদের হাতে এই খবরদারি কেন? আমি নিশ্চিত… বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে মূর্খরা কেন অনেক শিক্ষিতও অবৈতনিক এই পদ লাভের ইঁদুর দৌড়ে শামিল হবে না। তখন প্রকৃত শিক্ষানুরাগীরাই এগিয়ে আসবে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে। কাজেই শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়,পাশাপাশি রাজনীতি, দলবাজির ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত শিক্ষানুরাগীদের নিয়োগ দিন। সবচেয়ে ভালো হয় এই ম্যানেজিং কমিটি প্রথা বাতিল করলে। কেননা সকল অপকর্মের গোড়া এই ম্যানেজিং কমিটি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]