• প্রচ্ছদ » » মেয়েদের বলছিÑ অ্যাডভেঞ্চারের লোভে পড়ে কোনো সম্পর্কে জড়াবেন না


মেয়েদের বলছিÑ অ্যাডভেঞ্চারের লোভে পড়ে কোনো সম্পর্কে জড়াবেন না

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

আমেনা বেগম ছোটন

আমাদের কলেজে একটা মেয়ে ছিলো। তাকে মেয়েরা তেমন কেউ পছন্দ করতো না। সে সুন্দরী, হাসিখুশি, ভালো ছাত্রী, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিও চমৎকার। সবাই ফ্রেন্ডলি হয় না, মেয়েটিও তা ছিলা না। তবে সে নিজের মতো ভালো ছিলো। হোস্টেলের স্বাধীনতা অনেক সময় মানুষকে বিগড়ে দেয়। এর বিগড়ানো ছিলো অতি ছেলেঘেঁষা স্বভাব। তার রিডিং পার্টনাররা ছিলো ছেলে, সেটা অবশ্যই দোষের কিছু না। তবে তাদের মাঝে মধ্যে অন্ধকারে এটা সেটা করতে দেখা যেতো। তা যাক, ব্যাপার না। এক ছেলেকে ডাম্প করে, আরেক ছেলের সঙ্গে রিলেশনশিপে গেলো। যদিও সেটা উই আর জাস্ট ফ্রেন্ডস টাইপ ডিক্লেয়ারেশন ছিলো। ঝামেলা হলো এক্স যখন প্রেজেন্টের সঙ্গে একটা ভিডিও ছেড়ে দিলো। তখনকার দিনে এতো এন্ড্রয়েড ফোন ছিলো না। কে এতো যন্ত্রণা করে ২ এক্স ক্লিপ দেখতে যাবে। আমি দেখিনি। নিজেদের ক্লাসমেটদের এই পারফরমেন্স দেখার রুচি হয়নি। তবে অনেকেই দেখলো, মজাই তো। কয়েকদিন এই নিয়ে হইচই হলো। ও ১৫ দিন বাড়ি কাটিয়ে এলো। এসে আবার এক্সের সঙ্গে মিলে তুমুল পড়াশোনা শুরু করে দিলো। যথাসময়ে পাস করে অতি ভদ্র, ইয়ং এবং হ্যান্ডসাম ডাক্তার ছেলেকে বিয়ে করলো। এখন খুব চমৎকার ক্যারিয়ার করছে। আপনার সঙ্গে যদি কখনো তার দেখা হয়, আপনি স্বীকার করবেন, সে খুব প্রফেশনাল ডাক্তার। আর ছেলেগুলো? তারাও খুব ভালো আছে। চমৎকার বউ, বাচ্চার বাপ হয়েছে।
আমাদের রক্ষণশীল নীতিবাগীশ সমাজের সদস্য হিসেবে মেয়েটিকে আমি তেমন পছন্দ কখনো করিনি। তবে ঘটা করে এর গল্প বলছি কেন? আপনাদের সাহস দেবার জন্য। দেখেন জীবন অতি বড় একটা বিষয়। আপনার একটা অশালীন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে গেছে বা লোকে আপনাকে সাইবার ভিক্টিম হিসেবে চিনে ফেলেছে… এটা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। আপনি অবশ্যই ওই ব্যাটাকে শাস্তি দেবেন, কিন্তু কখনোই ভাববেন না আপনি শেষ হয়ে গেছেন। খুব বেশি হলে ভার্জিন বিয়ে করার আশায় থাকা রক্ষণশীল একটা লোকের এলিজিবল ব্রাইডের লিস্ট থেকে বাদ পড়েছেন। এর বেশি কিছু না। কেউ যদি বাঁকা চোখে তাকায়, জানুন এই খবিশ প্রাণীটা মেয়েদের নুড পিক খুঁজে বেড়ায়, এ আপনাকে সম্মান করলো কিনা তা খুব জরুরি কিছু নয়। আপনি যা করছিলেন করে যান। পড়ুন, চাকরি খুঁজুন। কোনো ছেলের ঘাড়ে উঠে জীবন পার করার যে অসম্মানজনক চিন্তা আপনার মাথায় ছিলো তা থেকে রেহাই পেয়েছেন। নাউ লিভ ইউর লাইফ এজ আ হিউম্যান, নট এ ওম্যান অনলি। মানসিক যন্ত্রণা? হবেই। কাটাছেঁড়া হলে জ্বলে, রক্তপাত হয়, দাগ পড়ে, একসময় সেরেও যায়। আপনি মন খারাপ করবেন, ঘুম হবে না, খাওয়ায় অরুচি হবে, যতেœর অভাবে নিজেকে পেতœীর মতো দেখাবে। সময় নিন, তবে ভুলেও লেখাপড়া থেকে ড্রপয়াউট হবেন না। পরীক্ষায় সি পান, কিন্তু অ্যাবসেন্ট করবেন না। আপনার শোক একসময় স্তিমিত হয়ে আসবে। নো ড্রামা নিডেড। সুইসাইড, ঘর ছেড়ে পালানো, নতুন রিলেশনে জড়ানো… একদম প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে বড় কথা নিজেকে অপরাধী ভাববেন না। ভালোবাসা, যৌনতা এগুলো কোনো ক্রাইম নয়, জীবনের একেকটা পর্যায় মাত্র । আপনি তো মধ্যযুগে বাস করছেন না, তাহলে মধ্যযুগীয় চিন্তা কেন করছেন? ভুল থেকে শিখুন, ভবিষ্যতে আর কোনো ভুল যাতে না হয়। অন্তত প্রেম সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
ফর ফ্রেশার… যারা এখনো কোনো বিপদে পড়েননি। অ্যাডভেঞ্চারের লোভে কোনো রিলেশনে যাবেন না। আমরা যখন অন্যকে সাফার করতে দেখি, তখন ভাবী এ ধরনের সাফারিংস সামাল দেবার মতো স্ট্রেন্থ আমার আছে। আসলে নেই। এভ্রিথিং হার্টস, দে রিয়েলি ডু। আপনি ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দেখতে পারেন, কিন্তু গায়ে দুই ফোটা গরম তেলের ছিটাও আপনাকে যথেষ্ট কষ্ট দিতে পারে। লুক বিফোর ইউ লিপ। সবাই ভালো থাকুন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]