শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হাজং সম্প্রদায়

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

শাহীন খন্দকার : দেশে প্রায় ৫০ হাজার হাজং সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক হাজং শিক্ষার্থী বাংলা মাধ্যমে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। হাজং নেতৃবৃন্দ বলছেন, এই অবস্থা পরিবর্তনে সরকারের এই সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া দরকার।
নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা জুড়ে গারো হাজং নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠি বসবাস করে আসছে সুদীর্ঘকাল ধরে। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনমান বাড়লেও এ অঞ্চলের হাজং নৃগোষ্ঠির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি আজো। উপরন্ত তাদের হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। হারাতে বসেছে তাদের পোশাক ও ভাষা-সংস্কৃতি।
ঐ দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নসহ একটি পৌরসভার মধ্যে শতাধিক গ্রামে ৩৭ হাজার নৃগোষ্ঠি জনসংখ্যা রয়েছে। পাহাড়ী এই জনপদের গারো-হাজং সম্প্রদায়ের মধ্যে গারোদের আর্থিক অবস্থার কিছুটা পরির্বতন হলেও হাজংদের অর্থনৈতিক পরির্বতন যেমন আসেনি, তেমনি শিক্ষার দিক থেকেও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনও পিছিয়ে আছে।
দুর্গাপুর বিরিশিরি নৃতাত্তি¡ক গোষ্ঠি কালচারাল অ্যাকাডেমির পরিচালক শরবিন্দু সরকার (স্বপন হাজং) জানান, হাজং সম্প্রদায়ের মানুষেরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির মধ্যে অন্যতম। যদিও সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির ভাগ্য উন্নয়নে বিশেষ কার্যক্রম চালু করেছে। এর সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে ধনী শ্রেণির নৃগোষ্ঠিরা। হাজং সম্প্রদায়সহ গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নৃগোষ্ঠিদের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন। হাজং সম্প্রদায় সনাতন ধর্মের মধ্যে উচ্চ সম্প্রদায় হওয়ায় ব্রিটিশ-পাকিস্তান শাসনামলে নির্যাতিত হলেও তারা নিজ ধর্ম-সংস্কৃতি ত্যাগ করেনি। তাদের হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যও হারিয়ে যেতে বসেছে। এই হারানোর মিছিলে আছে বাদ্যযন্ত্র, খাবার, পোশাক, এমনকি ভাষা। দুই উপজেলায় হাজং সম্প্রদায়োর লোক সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।
গারোরা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী, আর হাজং স¤প্রদায় সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও এ দুই স¤প্রদায়ের মানুষেরা নানা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। কালের বিবর্তনে হাজংরা শহরমুখী হয়েছে।
অঞ্জনা হাজং বলেন, পাহাড় অরণ্যে ঘেরা ডাহাপাড়া গ্রাম থেকে যখন দুর্গাপুর লেখাপড়া করতে আসতাম, একদিকে বন্য হাতির ভয়, আবার কখন ঘরে ফিরবো, সব সময় আতঙ্কের মধ্যে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ ১৫ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেছি। তিনি সুসং সরকারী মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি এবং গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে নার্সিং পাস করে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি হাজং সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েদের জন্য রাজধানীতে একটি হোস্টেলসহ শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ একটি ফান্ড চালু করার আবেদন জানান।
নালিতাবাড়ীর ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন চেয়ারম্যান মি. লুইস নেংমিনজা বলেন, কালের বিবর্তনে হাজং সম্প্রদায়ের হাজার বছরের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]