১ লাখ কোটি গাছ লাগালে পরিবেশ হবে ১০০ বছর আগের মতো

আমাদের নতুন সময় : 08/07/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : পরিবেশ ও বায়ুম-লকে ১০০ বছর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উপায় বলেছেন গবেষকরা। বেশি নয়. মাত্র ১ লাখ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব হলে ১০০ বছর আগের মতোই মুক্ত ও বিশুদ্ধ বাতাসে শ^াস নেওয়া যাবে। জুরিখভিত্তিক সুইজারল্যান্ড ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজির এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সায়েন্স, লাইভ সায়েন্স।
পৃথিবীর ৩ ভাগ জল আর ১ ভাগ স্থল। সে হিসেবে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, এতো গাছ লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় স্থান পৃথিবীতে কি আছে। গবেষকরা বলছেন, এরকম স্থান পৃথিবীতে যথেষ্ঠ আছে। শুধু সদিচ্ছা আর আগ্রহই এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবে। পৃথিবীর স্থলভাগের যে অংশে মানুষ বসবাস ও চাষাবাস করে তাকে বাদ রেখে গবেষকরা দেখিয়েছেন, গাছ লাগাানোর জন্য ৩৫ লাখ বর্গ মাইল বা ৯০ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পড়ে রয়েছে পৃথিবীতে। গবেষণা জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বায়ুম-লে যে পরিমাণে কার্বন জমা হয়েছে, এক লাখ কোটি গাছ খুব দ্রুত বসিয়ে ফেলা সম্ভব হলে তার ২৫ শতাংশই বায়ুম-ল থেকে সরে যাবে। বায়ুম-ল হয়ে যাবে ১০০ বছর আগের মতো।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এখন পর্যন্ত বায়ুম-লে জমা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি মেট্রিক টন কার্বন। আর এক লাখ কোটি গাছ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠলে, তা বায়ুম-ল থেকে টেনে নেবে ২০, ৫০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন। ফলে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এখনও পর্যন্ত বায়ুম-লে যতটা পরিমাণে কার্বন জমা হয়েছে, এক লাখ কোটি গাছ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পর তার এক-তৃতীয়াংশ কার্বনই টেনে নেবে। গাছ লাগানোর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি জায়গা রয়েছে রাশিয়ায়। ৫ লাখ ৮৩ হাজার বর্গ মাইল বা ১৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার।
গাছ লাগানোর জমির নিরিখে তার পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। রয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭০০ বর্গ মাইল বা ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটার। তার পর রয়েছে কানাডা (৩ লাখ ২ হাজার ৭০০ বর্গ মাইল বা ৭ লাখ ৮৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার), অস্ট্রেলিয়া (২ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ বর্গ মাইল বা ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ বর্গ কিলোমিটার), ব্রাজিল (১ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ বর্গ মাইল বা ৪ লাখ ৯৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার) ও চীন (১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ বর্গ মাইল বা ৪ লাখ ২ হাজার বর্গ কিলোমিটার)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই এক লাখ কোটি গাছ লাগানোর ফলে, পৃথিবীর বনাঞ্চল বেড়ে যাবে তিন গুণ। তবে তা শহরের এলাকায় ভাগ বসাবে না। কেড়ে নেবে না চাষাবাদের জমিও। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]