• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখছেন শেখ হাসিনা, গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন


চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখছেন শেখ হাসিনা, গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন

আমাদের নতুন সময় : 09/07/2019

লিহান লিমা : তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর বৃহত্তরভাবে সফল হয়েছে। শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সংষ্কৃতিতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছেন হাসিনা। চীনের প্রস্তাবিত বেল্ট এন্ড রোড সহ বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডর পরিকল্পনায় বাংলাদেশের শক্তিশালী সহযোগিতামূলক ভূমিকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন শেখ হাসিনা। গ্লোবাল টাইমস।

চীনের সরকারী গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্ময়কর কিছু নয়। দ্রুত আর্থিক অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের সেরা অবকাঠামো, বিপুল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। চীন শুধু বাংলাদেশকে ঋণ প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহায়তাই দেয় নি সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো, সড়ক ও টেলিযোযোগ ব্যবস্থাপনায়  বৃহত্তরভাবে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই সফরে ব্যাপক আলোচনা করেছেন শেখ হাসিনা। চীন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দেয়াসহ এই সংকটের সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার চীন সফর তার প্রায়োগিক বৈদেশিক নীতির বহিঃপ্রকাশ। ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে কোন ধরনের দ্বিধা রাখেন নি শেখ হাসিনা। তরুণ বয়সে ভারতে নির্বাসিত থাকার সময় এবং রাজনীতিতে আসার শুরুতে শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়াপন্থী হিসেবে দেখা গিয়েছে। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বাংলাদেশকে বৃহত্তর প্রতিবেশি ভারতের প্রভাব থেকে বের করে নেয়াসহ সোনার বাংলা গড়তে ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। ছিটমহল বিনিময়, পানি ভাগাভাগি ও সড়ক যোগাযোগসহ বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর উন্নয়নের জন্য এগুলো ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজন ছিলো। তিনদিক থেকে বাংলাদেশকে ভৌগোলিকভাবে ঘিরে থাকা নয়া দিল্লির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের জন্য লাভজনকও হবে না।

শেখ হাসিনা ভারত কিংবা চীন কাউকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের স্বার্থই তার কাছে সর্বাগ্রে। দুইদিক রক্ষা করেই শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি সব প্রতিবেশির সঙ্গেই সুসম্পর্ক চান। তার পররাষ্ট্রনীতিতে কোন বিরোধ নেই।

অন্যদিকে দায়িত্বশীল, প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় চীন। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ও সিল্ক রোড প্রকল্পের জন্য শি জিনপিংয়ের কাছে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ধারণা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে যা কিনা উন্নয়নের দিকে নজর দেয়ার জন্য সহায়ক হবে। সেক্ষেত্রে চীন হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সবচেয়ে আস্থাভাজন সহযোগী। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]