• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » রুশ বিজ্ঞানী পাভলভের মতে, ‘ধর্ষকের ভেতরে কুকুর বাস করে’, সহমত প্রকাশ ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর


রুশ বিজ্ঞানী পাভলভের মতে, ‘ধর্ষকের ভেতরে কুকুর বাস করে’, সহমত প্রকাশ ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর

আমাদের নতুন সময় : 09/07/2019

দেবদুলাল মুন্না : ১৩৯ বছর আগে রুশ বিজ্ঞানী পাভলভের মনে প্রশ্ন জেগেছিল পাঁচ বছরের শিশু বা আপাদমস্তক বোরকাবৃতা ৬৫ বছরের বৃদ্ধারা কেন ধর্ষিত হয়? তিনি বলেছিলেন, ‘ধর্ষকের ভেতরে কুকুর বাস করে’। তিনি ব্যাখাও দিয়েছেন। তার মতের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিজ্ঞানী পাভলভ একদল কুকুরকে ল্যাবে বেঁধে রেখে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তাদের খাবার দিতেন। কুকুরের সামনে থাকত খাবারের বাটি এবং আয়না। সেখানে পাভলভ কুকুরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতেন। পাভলভের সঙ্গে থাকতেন তার ল্যাব সহকারী। খাবার গ্রহণের সময় কুকুরের কী পরিমাণ লালা ঝরত সেটি একটি কন্টেইনারে মাপা হতো। ব্রেইনের স্বাভাবিক রিফ্লেক্স হলো খাবার গ্রহণের সময় লালা ঝরা। কিন্তু পাভলভ দেখলেন যে, খাবার গ্রহণ নয়, খাবার দেখেও এবার কুকুরের লালা ঝরতে শুরু করে। বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর পাভলভ দেখলেন তিনি ল্যাবে ঢুকলেই কুকুরের লালা বের হচ্ছে। সঙ্গে খাবার থাক আর না থাক। পাভলভ এবার নিজে ল্যাবে না গিয়ে খাবারবিহীন অবস্থায় তার ল্যাব সহকারীকে ল্যাবে পাঠালেন। ল্যাব সহকারী অবাক হয়ে দেখলেন তাকে দেখেও (ল্যাব সহকারী) কুকুরের লালা ঝরছে। পাভলভ এবার ভিন্ন কিছু করলেন। তিনি কুকুরকে খাবার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে একই সময়ে একটি ঘণ্টি বাজাতে থাকলেন। খাবার দেয়া হচ্ছে এবং ঘণ্টি বাজানো হচ্ছে।এরপর পাভলভ এবং সহকারী একদিন খাবার ছাড়াই ল্যাবে আসলেন এবং ঘণ্টি বাজাতে শুরু করলেন। দেখলেন খাবার না দেয়া সত্ত্বেও কুকুরগুলোর একই পরিমাণ লালা ক্ষরণ হচ্ছে। পাভলভ সিদ্ধান্তে এলেন খাবারের প্যাকেট, ল্যাব অ্যাসিস্টেন্ট, ঘণ্টির শব্দ, এগুলো সব নিউট্রাল স্টিমুলেশন। এগুলোর সঙ্গে লালা ক্ষরণের সম্পর্ক নেই। কিন্তু কুকুর তার লার্নিং বিহেভিয়ারে খাবারের সঙ্গে খাবারের প্যাকেট, পাভলভ, ল্যাব সহকারী বা ঘণ্টার শব্দকে কো- রিলেট করে ফেলেছে এবং খাবারের সঙ্গে যা যা ঘটে সব কিছুকেই লালা ক্ষরণের উপাদান হিসেবে তার ব্রেইন ডিটেক্ট করছে। ব্রেইনের এই লার্নিং মেথডকে তিনি ‘কন্ডিশনিং’এবং ‘কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্স’ বলেছেন। অর্থাৎ ব্রেইন এমন একটি স্টিমুলেশনের প্রতি সাড়া দিচ্ছে, যেটিতে ব্রেইনের আদৌ রেসপন্স করা উচিত না, কিন্তু করার কারণ হচ্ছে ব্রেইনএই স্টিমুলেমনকে আরেকটি স্টিমুলেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ফেলেছে। ফলে সমাজের অর্গানগুলোকে যখন ‘কুকুর প্রজাতি’র মানুষ ‘ধর্ষণের সহায়ক’ ভেবে কো-রিলেট করে তখনই স্টিমুলেটেড হয় এবং পাশবিক হয়ে উঠে।

এ বিষয়ে ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পাভলভ সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভেতরের পাশবিক প্রবৃত্তির বিশ্লেষণ করেছিলেন। কালচার ও নেচারের বাইরে কিছু নেই। যে যতো কালচারাল সে ততো মানবীয় হয়ে উঠে। তার মধ্যের পাশবিকতাকে ত্যাগ করতে পারে। কিন্তু যে আনকালচারাল সে নেচারের কাছেই সমর্পণ করে। আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে কারণ কঠোর আইন নেই, অবদমিত সমাজ, মানবিক মর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। ফলে ধর্ষকরা জানে যে শফি হুজুরের’ মতো নারী দেখলে লালা ঝরাটাই স্বাভাবিক। খারাপ কিছু নয়। এ কারণে ধর্ষণ বাড়ছে।’




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]