শুভ জন্মদিন টম হ্যাঙ্কস

আমাদের নতুন সময় : 09/07/2019

বাবলু ভট্টাচার্য : মিষ্টি চেহারা কিন্তু প্রচ- লাজুক স্বভাবের ছেলেটিকে স্কুলে সবাই ‘থমাস জেফ্রি হ্যাঙ্কস’ নামে চিনতো। ছোট্ট সেই ছেলেটি এখন ছয় ফুটের এক মধ্যবয়সী অভিনেতা। ঝুলিতে তার দুটি অস্কারসহ আরও ৬৭টি পুরস্কার। বলছি, বিখ্যাত মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক টম হ্যাঙ্কসের কথা। তিনি সমসাময়িক মার্কিন সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের অন্যতম। জন্মসূত্রে কর্কট রাশির জাতক টম হ্যাঙ্কসের বাবা অ্যামস মেফোর্ড হ্যাঙ্কস ছিলেন একজন ভ্রাম্যমাণ পাচক, আর মা জ্যানেট ম্যারিলিন হাসপাতালকর্মী। তাদের অন্য পরিচয়, তারা দু’জন ওই এলাকায় বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন উন্নতি করার প্রবর্তক। ১৯৬০ সালে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর বাবার হাত ধরে ঘুরতে ঘুরতে আর নিত্যনতুন স্কুলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে নিতেই টমের শৈশবের অনেকটা সময় কেটে গেছে।

স্কাইলাইন হাইস্কুল, চ্যাবট কলেজ এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কাটেছে তার শিক্ষাজীবন। অভিনয় জীবনে ঈর্ষণীয় সাফল্যের অধিকারী হ্যাঙ্কস মূলত দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় সাধারণ মানুষের চরিত্রে কিংবা অসাধারণ পরিস্থিতিতে সাধারণ চরিত্রে বেশি অভিনয় করেন। তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’, ‘দ্য গ্রিন মাইল’, ‘ক্লাউড অ্যাটলাস’, ‘অ্যাঞ্জেল অ্যান্ড ডেমন্স’, ‘ফরেস্ট গাম্প’, ‘কাস্ট অ্যাওয়ে’, ‘বিগ, দ্যাট থিং ইউ ডু!’, ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’ ইত্যাদি মনে রাখার মতো। টয় স্টোরি সিরিজ তার বিখ্যাত অ্যানিমেশন সিরিজ।

‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ (১৯৯৮) ছবিতে টম হ্যাঙ্কসের অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তাকে ১৯৯৯ সালে ইউএস নেভি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ডিস্টিংগুইশড পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পদকে ভূষিত করে। ছবিটির মূল কাহিনির লেখক রবার্ট রোড্যাট এবং পরিচালক ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এতে টম হ্যাঙ্কস অভিনয় করেন ক্যাপ্টেন মিলারের চরিত্রে। তার নেতৃত্বে শত্রুর হাত থেকে প্রাইভেট জেমস রায়ান নামের এক ছত্রীসেনাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে আনতে আট সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়। জেমস রায়ানের বাকি তিন ভাই যুদ্ধে শহীদ হন। ১৬৯ মিনিটের এই ছবি পাঁচটি অস্কার জিতে নেয়।

‘ফরেস্ট গাম্প’ (১৯৯৪) ছবিতে তার কৃতিত্ব তাকে প্রিমিয়ার ম্যাগাজিনের সর্বকালের সেরা ১০০ ছবি তারকার তালিকায় ৪৩তম স্থান দিয়েছে। ছবির কেন্দ্রীয় ‘ফরেস্ট গাম্প’ চরিত্রে অভিনয় করেন টম নিজে— যার অতি সামান্য সাধারণ জ্ঞান থাকলেও অনেক ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকে। ছোটবেলার প্রিয়তমা জেনির কাছে সব সাফল্য যার তুচ্ছ মনে হতো, সেই গাম্প পরবর্তীকালে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে, যে কেউ চাইলে যে কাউকে ভালোবাসতে পারে! ১৪২ মিনিটের ছবিটির পরিচালক রবার্ট জিমেকিস। ছবিটি ছয়টি অস্কারসহ আরও ৩৮টি পুরস্কার জিতে নেয়।

একই সঙ্গে হাসি, আনন্দ ও কান্না এনে দেয় ফ্রাংক ডারাবন্ট পরিচালিত ‘দ্য গ্রিন মাইল’ (১৯৯৯) ছবিটি। এতে টম হ্যাঙ্কস পল এজকম্বের চরিত্র অলংকরণ করেন— যিনি ছিলেন গ্রিন মাইলের প্রধান কারারক্ষী। ১৮৯ মিনিটের ছবিটি চারটি অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

টম হ্যাঙ্কসের বর্তমান জীবনসঙ্গিনী রিটা উইলসন। তার সন্তান চারজন। বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য স্বীকৃতি। স্পেন্সার ট্রেসির পর তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি ‘ফিলাডেলফিয়া’ (১৯৯৩) এবং ‘ফরেস্ট গাম্প’ (১৯৯৪) ছবি দুটির জন্য পরপর দুই বছর অস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন। ২০০২ সালে প্রদত্ত স্টার টিভির নব্বইয়ের দশকের শীর্ষ ১০ বক্স অফিস তারকার তালিকায় তার স্থান প্রথম। ১৯৯৭ সালে এম্পায়ার ম্যাগাজিনের সর্বকালের সেরা ১০০ ছবি তারকার তালিকায় তিনি ১৭তম স্থান লাভ করেন। খেলাধুলার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগী হ্যাঙ্কস ক্লিভল্যান্ড ইন্ডিয়ানস বেসবল দলের সমর্থক।

টম হ্যাঙ্কস ১৯৫৬ সালের আজকের দিনে (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কনকর্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]