মার্কিন প্রশাসনকে অযোগ্য বলা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসার পূর্ণ সমর্থন, ট্রাম্পের ক্ষোভ

আমাদের নতুন সময় : 10/07/2019

লিহান লিমা : মার্কিন প্রশাসনকে ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আর কোন কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে শীঘ্রই ক্ষমতা থেকে সরে যাচ্ছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। ডেইলি মেইল, বিবিসি, গার্ডিয়ান

গত সপ্তাহে গোপন ক্যাবল ফাঁসে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘অযোগ্য’ ও ‘এলোমেলো’। জুনে ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর নিয়ে কিম সতর্ক করে আরো বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন স্বার্থপর ও আমেরিকা ফার্স্ট ছাড়া তারা কিছুই ভাবতে পারে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিকে ‘অযৌক্তিক ও বিশৃঙ্খল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই ই-মেইল ফাঁসের পর ট্রাম্প ওই রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি ওই রাষ্ট্রদূতকে চিনি না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আমরা আর তাকে চাই না। সে ঠিকমতো নিজেদের দেশকে তুলে ধরতে পারে নি। তার সঙ্গে কোন কাজ নয়। তবে ভালো খবর হলো শীঘ্রই ব্রিটেন একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে।’ অপর টুইটে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ধরণের আমি তীব্র সমালোচনা করি।  তিনি পুরো প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করে ছেড়েছেন। কিভাবে এটি ভালোভাবে করা যাবে আমি তাকে বলেছি কিন্তু তিনি অন্য পথে হেঁটেছেন।’

ডেইলি মেইল জানায়, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ওই ই-মেইল ফাঁসের পেছনে রাশিয়া রয়েছে কি না এটি নিয়ে তদন্ত করছে ব্রিটেন কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, যেই এই কাজ করুক না কেন তাকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। ই-মেইল ফাঁসের জন্য ওয়াশিংটন সফরে থাকা ব্রিটেনের বাণিজ্য মন্ত্রী লায়াম ফক্স ফার্স্ট ডটার ইভানকা ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান। ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে বলেন, ‘স্যার কিম ওই পদের জন্য পুরোপুরি অনুপযুক্ত। তার অতি শীঘ্রই সরে যাওয়া উচিত।’ যদিও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতের ওপর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।  ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, ‘ই-মেইল ফাঁসের বিষয়টি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিলো। নির্দিষ্ট কিছু শব্দ কখনোই পুরো সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে স্যার কিমের শব্দচয়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন না কিন্তু রাষ্ট্রদূতের ওপর তার পূর্ণ বিশ^াস রয়েছে।’

গার্ডিয়ান জানায়, ট্রাম্পের অবস্থান ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিধায় ফেলে দেবে। দারোসকে সরিয়ে না আনলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দারোসের বর্তমান মেয়াদ জানুয়ারিতে শেষ হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদ শেষের পর নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে পারেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]