তাপদাহে হুমকির মুখে বিশ্বের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো

আমাদের নতুন সময় : 11/07/2019

নূর মাজিদ : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ তুলনামূলক অনেক কম দূষণ সৃষ্টিকারী পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে। বিশেষত দীর্ঘমেয়াদে এই শক্তি বিপুল বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা রাখে। তবে পরমাণু শক্তি মোটেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো থেকে মুক্ত নয়। কারণ এসব কেন্দ্রে পরমাণু চুলি¬ ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ পানি, যা প্রাকৃতিক উৎস থেকেই সংগ্রহ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের পরমাণু বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো উষ্ণতাবৃদ্ধির কারণে তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের দুই গোলার্ধেই এই হুমকি আরো তীব্রতা পেয়েছে, তাপপ্রবাহ বাড়ার কারণে। ফলে এগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের স্থায়ী সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

এর উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারে ফ্রান্স। দেশটির ইডিএফ কো¤পানি তাদের বুগোই কেন্দ্রের চারটি চুলি¬ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা কমিয়েছে।  এই চুলি¬গুলো ঠান্ডা রাখার জন্য রোন নদীর পানি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, চলতি জুলাই থেকেই ইউরোপে যে তীব্র তাপ-প্রবাহ দেখা দিয়েছে সেটাই নদীর পানির উষ্ণতা বাড়িয়েছে, কমিয়েছে পানি প্রবাহের পরিমাণও। এই অবস্থায় ইডিএফ কর্মকর্তাদের সামনে উৎপাদন সীমিত করা ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুলি¬ও একই ধরণের সমস্যার মুখে পড়েছে। একদিকে যখন ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, তার মাঝেই পারমাণবিক উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দুটি দেশই মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, তীব্র তাপদাহ বা লম্বা গ্রীষ্ম যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের নতুন বাস্তবতা সেটা মোকাবেলার ক্ষমতা পরমাণু কেন্দ্রগুলো খুবই অকার্যকর।

তবে সেই তুলনায় সমুদ্র থেকে পানি সংগ্রহকারী কেন্দ্রগুলো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ পরমাণু কেন্দ্র এই পদ্ধতিতেই নিজেদের চুলি¬ ঠান্ডা রাখে। তবে এই নিরাপত্তা সমুদ্র থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোর নেই। যা মধ্য  ও দক্ষিণ এশিয়া এবং দূর প্রাচ্যের দেশগুলোতে চালু থাকা পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ই এখন তীব্র তাপদাহ এবং পানি সংকটের শিকার। এই উৎসের নিশ্চয়তার উপরই নির্ভর করছে দেশদুটির অস্তিত্ব এবং সমৃদ্ধি। এই অবস্থায় নদীর পানি কমে আসার কারণে দেশদুটির অনেক প্রদেশেই কৃষি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। এই দেশগুলোর পরমাণু চুলি¬গুলোর পানি চাহিদা এইক্ষেত্রে বিদ্যমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অথচ, দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহযোগী উৎপাদনের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হবে।

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]