ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বিরোধী মূল্যবোধ শেখাতে হবে, বিশ্লেষকদের অভিমত

আমাদের নতুন সময় : 11/07/2019

শাহীন খন্দকার : মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে দেশে চারশ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশু ধর্ষণ এখন এক আতঙ্কের নাম। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানুষের মূল্যবোধ বাড়ানোর দিকেই জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি রাজধানীর ওয়ারীতে শিশু ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা সবার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ৭ বছরের শিশু সামিয়াকে ছাদ দেখানোর কথা বলে ধর্ষণের পরে হত্যা করে ধর্ষক। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিশুদের অভিভাবক, স্কুলের শিক্ষকেরা। সবাই খুঁজছে এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য, বিচার না হওয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শাস্তি হচ্ছে না। মামলা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে, কিন্ত সেগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে না। যা দেখে আরেকজন ভয় পাবে। এখন অপরাধ করে প্রভাবশালীরা, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি সম্পন্নরা পার পেয়ে যাচ্ছে। শিশু ধর্ষণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রÑতিন জায়গাতেই কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যা উত্তরণের লক্ষ্যে পরিবারের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসায় সেমিনার-আলোচনা সভার মাধ্যমে দেশব্যাপি সচেতনতা সৃষ্টি করলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেজিস্ট্রার ডা. নাহিদা হোসেন বন্যা বলেন, ফ্ল্যাট বাড়ি বা অন্য জায়গাগুলোতেÑপারিবারিক সিদ্ধান্ত; যেমন শিশু কোথায় যাবে, কখন যাবে, কার সাথে কে যাবে, তেমন কোন মেকানিজম নেই। উন্নত বিশ্বের প্রতিটি দেশে একটা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগ থাকে। কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর করে। আমাদের দেশেও সেরকম একটা সিস্টেম থাকা উচিত।

ডা. বন্যা বলেন, ধর্ষণ থেকে শিশুদের রক্ষার্থে স্কুল পর্যায়ে আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে হবে। মেয়ে শিশুর পাশাপাশি ছেলে শিশুকেও ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বিরোধী মূল্যবোধ শেখাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সে এ ধরণের আচরণ না করে।

ধানমন্ডির বাসিন্দা সুম্মি আফরোজ শিলা বলেন, অপরাধী অপরাধ করার পরেও শাস্তি হচ্ছে না, তারা দেখছে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাকে পুলিশ ধরতে পারবে না। এরকম একটা দৃষ্টিভঙ্গি চলে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যাকে গুরুত্ব না দেয়া এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। সমাজে প্রকৃত যৌনশিক্ষার অভাব রয়েছে। তার মতে, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাইমারী স্কুল থেকে কলেজ পর্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা পড়াতে হবে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]