অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত

আমাদের নতুন সময় : 12/07/2019

মুরাদ হাসান : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা  দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় এর প্রভাব পড়েছে বেশি। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে  গেছে পুকুর ও মৎস্যখামারসহ কৃষিজমি। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:

কুড়িগ্রাম থেকে শাহানাজ পারভিন জানান,  চারদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার চরাঞ্চলসহ ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল  শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।

রাঙামাটি : টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার বহু রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। খোলা হয়েছে ২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র।

নেত্রকোনা থেকে দিলওয়ার খান জানান, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয়বারের মত বাড়তে শুরু করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর কলমাকান্দাসহ সকল নদীর পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার  বেলা ১২টার দিকে দুর্গাপুরের বিরিশিরি পয়েন্টের পানির গেজ রিডার নাঈম আহমেদ জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। জারিয়া এলাকার পানির গেজ রিডার আলমগীর হোসেন জানান, কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে  প্রবাহিত হচ্ছিল।

 

নীলফামারী থেকে সোহেল রানা জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী, জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০টি চরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

 

লালমনিরহাট থেকে লাভলু শেখ জানান, জেলা ত্রাণ শাখার তথ্য মতে, লালমনিরহাটে ১ হাজার ৮শ ৭৭ টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাটে গত ৫ দিন থেকে টানা ভারি বর্ষণে তিস্তা ও ধরলার তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

 

ফেনী থেকে মোর্শেদ জানান : টানা বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১২টি স্থান ভেঙে গেছে। এতে জেলার ফুলগাজী  ও পরশুরাম  উপজেলার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গাইবান্ধায় থেকে আনোয়ার শামীম জানান, গত কয়েক দিনের একটানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সেইসাথে নদী ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

এতে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা এবং সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাসহ চরাঞ্চলগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। ফলে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ও অস্থায়ী নৌঘাটগুলো তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সকল নদ নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও প্রতিটি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এই হারে অব্যাহত থাকলে বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে। সম্পাদনা : ওমর ফারুক

 

 

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]