শুভ জন্মদিন পাবলো নেরুদা

আমাদের নতুন সময় : 12/07/2019

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘আমি কবিতা লিখি না। আমি কবিও নই। আপনারা আমাকে কেন কবি বলেন, তা আমি জানি না। আমি শুধু শ্রমিকের জীবন ও জীবনের বোধ-অনুভূতি-কষ্টগুলো উপলব্ধি করি এবং তা কোনো কাগজে লিখে রাখি, নিজেরই প্রয়োজনে। বলুন এজন্য কি আমাকে কবি বলা যায়? আমি কবি হতে চাই না। আমি তাদের একজন বন্ধু হতে চাই’ পাবলো নেরুদা। পাবলো নেরুদা বিশ্বের বিবেকবান কবি। নির্যাতিত মানুষের কবি। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কবি। শোষিত মানুষের কবি। বিপ্লবের কবি। নেরুদার পুরো নাম রিকার্দো নেফতালি রেয়াসই বাসোয়ালতো। ‘পাবলো নেরুদা’ তার নিজের নেয়া ছদ্মনাম। এ নামেই তিনি পরিচিত। তার বাবা ছিলেন একজন রেল শ্রমিক আর মা ছিলেন শিক্ষয়ত্রী। নেরুদার জন্মের ২ মাসের মধ্য তার মা মারা যান। বাবাও বেশিদিন বাঁচেননি। সৎ মায়ের কাছে কেটেছে শৈশব।

১৯২০ সালে ষোলো বছর বয়সে পত্রিকায় নেরুদা নাম নিয়ে লেখালেখি শুরু। ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই ‘ক্রেপুস্কুলারিও’ অর্থাৎ ‘গোধূলি লগ্নের গ্রন্থ’। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘কুড়িটা প্রেমের কবিতা ও একটি নিরাশার গান’। সাহিত্য জগতে ঝড় তুললেন এই বই দুইটির মাধ্যমে। এতে ছিলো ভালোবাসা-প্রেম ও যৌবনের আবেদন। এ নিয়ে শুরু হয় পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক। প্রশংসা করেন অনেকেই। আবার সমালোচনাও কম নয়। অনেক ভাষায় বই দুটোর অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

১৯২৭ সালে সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আর্থিক অনটনের কারণে রেঙ্গুনে (বার্মা) চিলির রাষ্ট্রদূত হিসেবে সরকারি চাকরিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে একই দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন সিলোনের কলোম্বোয়, বাটাভিয়ায় (জাভা) ও সিঙ্গাপুরে। ১৯৩৪ সালে তিনি চিলির রাষ্ট্রদূত হয়ে স্পেনে যান।

১৯৪২ সালে নেরুদা রচনা করেন ‘কান্তো আ স্তালিনগ্র্যাদো’ নামে একটি কবিতার বই। ১৯৪৩ সালে ‘নুয়ভো কান্তো দে আমোর আ স্তালিনগ্রাদো’ নামে আরেকটি বই রচনা করেন। এ দুটো কবিতায় তার কমিউনিস্ট চেতনা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এ সময় তিনি চিলির রাষ্ট্রদূত হয়ে মেক্সিকোতে ছিলেন।

১৯৪৫ সালের ৪ মার্চ আতাকামা মরু অঞ্চলের আন্ডোফাগাস্তা ও তারাপাকা প্রদেশের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে সিনেটর নির্বাচিত হন নেরুদা। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিলির কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৪৬ সালে র‌্যাডিক্যাল পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গাব্রিয়েল গনজালেজ ভিদেলা তার নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাপক হওয়ার অনুরোধ জানান নেরুদাকে।

১৯৪৫ সালে খনি শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রতিবাদ করায় চিলি সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন নেরুদা। ১৯৪৭ থেকে ’৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গাব্রিয়েল গনজালেজ ভিদেলা সা¤্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে। যার ফলে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়েন নেরুদা। চলে যান ইউরোপে।

১৯৫৩ সালে তিনি স্তালিন পুরস্কার পান। ১৯৬৯ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টি নেরুদাকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য মনোনীত করে। পরে সম্মিলিত বামফ্রন্ট সালভাদোর আলেন্দেকে সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন নেরুদা। ১৯৭০ সালে আলেন্দে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। আলেন্দে নেরুদাকে ফ্রান্সে চিলির রাষ্ট্রদূত করে পাঠান। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৭৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নেরুদা মৃত্যুবরণ করেন।

নেরুদার প্রকাশিত ৬৫টি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘গোধূলিলগ্ন’, ‘ক্ষুদ্র মানুষের ঝুঁকি’, ‘হে স্পেন আমার হৃদয়’, ‘স্তালিনগ্রাদের সঙ্গীত’, ‘মাচ্চু-পিচ্চুর শিখরে’, ‘প্রজ্জ্বলিত তরবারি’, ‘সমুদ্রের ঘণ্টাধ্বনি’ ইত্যাদি। এছাড়া তার আত্মজীবনী ‘অনুস্মৃতি’ একটি অসাধারণ বই।

পাবলো নেরুদা ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই চিলির পারালেতে জন্মগ্রহণ করেন।

লেখক: চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]