• প্রচ্ছদ » » ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল : কে কার আগে?


ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল : কে কার আগে?

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

আতিক খান

প্রশান্তির বিশ্বকাপ। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ছাড়া ফাইনাল। ২৩ বছর পর নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখবে ক্রিকেট ফ্যানরা। মজার ব্যাপার হলো ভারত ছাড় দেয়াতেই ইংল্যান্ড সেমিতে উঠেছে আর সেই ভারতই এখন নেই, কিন্তু ইংল্যান্ড হয়তোবা কাপই নিয়ে যাবে। ইংল্যান্ড ২৭ বছর পর ফাইনালে উঠেছে আর ২০১০-এর ২০-২০ ছাড়া আর কোনো বিশ্বকাপই ওরা জিতেনি। অস্ট্রেলিয়াকে এভাবে হারতে দেখার মধ্যেও একধরনের কুৎসিত আনন্দ আছে।
ইংলিশ দলটা এক অর্থে খুবই পরিপূর্ণ একটা দল। পাঁচজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পেয়েছে আর চারজন বোলার ১০+উইকেট। সঙ্গে বেন স্টোকসের অলরাউন্ড পারফরমেন্স। ওভার কনফিডেন্সের কারণে মাঝে কয়টা ম্যাচ হেরে বিপদে পড়েছিলো। ইংল্যান্ড সাকিবের আরেকটা উপকার করেছে। ওয়ার্নার, ফিঞ্চ আর স্টার্কের সেরা খেলোয়াড় হবার সম্ভাবনায় আশা করছি পানি ঢেলে দিয়েছে। সকালে কয়জন ভদ্রলোক শিপে এসেছেন বেড়াতে। একজন উপমহাদেশীয় ভদ্রলোক দেখলাম খুবই মনমরা। বুঝলাম নির্ঘাত ভারতীয়। আমাকে বললেন, য্যায়সে কারনি, এয়সে ভারনি… পাকিস্তানকে আউট করার জন্য ভারত ইচ্ছা করে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেদিন ম্যাচ হেরেছিলো। অথচ সেবারই প্রথম পুরা পাকিস্তান ইন্ডিয়াকে সাপোর্ট দিয়েছিলো। পাকিস্তানের বদদোয়া লেগেছে ভাই। ধোনি সেদিন খেলেনি আর এইদিন খেলতে চেয়েও পারেনি। তুমি স্বেচ্ছায় কারও ক্ষতি করলে একদিন তোমারও ক্ষতি হবে। আমি যোগ করলাম, জি ভাই? বাংলাদেশের বদদোয়াও লেগেছে। আমাদের সম্ভাবনাও ভারত ডুবিয়ে দিয়েছিলো তাই ফেসবুকে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। যাবার আগে বললেন, এই বিশ্বকাপে সেরা প্লেয়ার তোমাদের অলরাউন্ডারটা… কি যেন নাম? সাকিব আল হাসান…
কোহলি নাকি আইপিএল ফরম্যাটে বিশ্বকাপ চেয়েছে। আইপিএলকেই বিশ্বকাপ ঘোষণা করে দিলেই পারে। এমনিতেও এই সময় অন্যদের খেলা বন্ধই থাকে। ভারতীয়রাই খেলবে, অন্য দল হতে অল্প কয়জন প্রতিনিধি নিলেই যথেষ্ট। ভারতের পরাজয়ে এতো আনন্দ উৎসব কেন? এই ঘৃণার বীজ একদিনে রচিত হয়নি। আমাদের অর্থমন্ত্রী আইসিসি সভাপতি থাকাকালে বিশ্বকাপ ট্রফি দিতে দেয়া হয়নি বাংলাদেশি বলে, শ্রীনিবাসন দিয়েছিলো। মোস্তফা কামাল রিজাইন দিয়েছিলেন। এতোবার হারাবার পরেও ভারতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ডাকেনি। আইসিসির সর্বোচ্চ কন্ট্রিবিউশান নিয়ে নেয় ভারত। এই বিশ্বকাপেই বেশি বিশ্রাম নিতে সবার পরে খেলতে নেমেছে ভারত। ইংল্যান্ডের পিচগুলোও এবার বানানো হয়েছে ভারতীয় পিচের মতো করে। মর্গান এজন্যই বলেছে, মনে হচ্ছে না দেশের মাটিতে খেলছি। আম্পায়ারদের ৫০-৫০ ডিসিশনগুলো ভারতের পক্ষে গেছে। ১৪ জুলাইয়ের ম্যাচগুলোও দেয়া হয়েছে ভারতকে।
আমাদের সঙ্গে শেহবাগ, ধোনি, কোহলি একেকজনের ঔদ্ধত্য, মন্তব্য আর ভাবসাব দেখেই গা জ্বলে যেতো। গত দশ বছরে সীমান্তে বিএসএফ মেরেছে প্রায় তিনশ বাংলাদেশি। আইপিএলে যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশি প্লেয়ারদের ডাকে না, সেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখে। কাপ নেয়ার সমস্ত প্ল্যান এরা করে রেখেছিলো। শুধু আল্লাহর প্ল্যান ছিলো ভিন্ন। বৃষ্টিতে একদিন পÐ হলো, দ্বিতীয় দিন কথাবার্তা নেই আকাশ মেঘলা হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে বল সুইং করতে লাগলো আর ভারতের টপ অর্ডার শেষ। অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ হলো আর ধোনির সেই রান আউট! কর্মফল…! কাপ না জিতেও তাই আমাদের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]