• প্রচ্ছদ » » কোম্পানি, রাজনীতিবিদ আর সিভিল সার্ভেন্ট মিলে এখানে এমন এক হলি এলায়েন্স তৈরি হয়েছে যেখানে জনস্বার্থ বিবেচনার কোনো সুযোগই নেই


কোম্পানি, রাজনীতিবিদ আর সিভিল সার্ভেন্ট মিলে এখানে এমন এক হলি এলায়েন্স তৈরি হয়েছে যেখানে জনস্বার্থ বিবেচনার কোনো সুযোগই নেই

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

কামরুল হাসান মামুন

পাস্তুরিত দুধে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট এবং ফরমালিন থাকার কথা দেশবাসীকে জানানোর ফলে মন্ত্রণালয়ের হুমকির প্রেক্ষিতে ১০ জুলাই একটি টিভি চ্যানেলে তিন পক্ষেরই লাইভ সাক্ষাৎকার প্রচার করে। মন্ত্রণালয়ের সচিব সাহেবের ঘুরেফিরে একটিই কথা ‘পিয়ার রিভিউড জার্নালে’ প্রকাশের আগে কেন গবেষণার ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করলো। প্রথম প্রশ্ন হলো ওই সচিব সাহেব কি কর্পোরেট কোম্পানির পোষা কেউ নাকি উনি জনগণের ভৃত্য (পাবলিক অর সিভিল সারভেন্ট)? যতোদূর জানি ধ পরারষ ংবৎাধহঃ ড়ৎ ঢ়ঁনষরপ ংবৎাধহঃ’ং ভরৎংঃ ঢ়ৎরড়ৎরঃু রং ঃড় ৎবঢ়ৎবংবহঃ ঃযব রহঃবৎবংঃং ড়ভ পরঃরুবহং হড়ঃ ঃযব রহঃবৎবংঃ ড়ভ ধ ভবি ৎরপয পড়সঢ়ধহরবং! কথা শুনে তার সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠা কি খুব স্বাভাবিক নয়? যেই অভিযোগ আসা উচিত ছিলো ওইসব দুধ কোম্পানির কাছ থেকে সেইসব অভিযোগ আনছেন এখন একজন সিভিল সার্ভেন্ট। কি বিচিত্র ব্যাপার। তার তো বরং উচিত ছিলো সেই অধ্যাপককে ধন্যবাদ দেয়া এবং তার পক্ষে দাঁড়ানোর। বলা উচিত ছিলো যেই কাজ আমাদের মন্ত্রণালয়ের ছিলো সেটা আমরা পারিনি। তার বলা উচিত ছিলো ‘আমরা লজ্জিত যে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে আমরা পারছি না’! উল্টো এখন তিনি কি করছেন একজন শিক্ষক-কাম গবেষককে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কেবলই কি তাই? শিক্ষক রাজনীতির যে কি কুফল তাও এর মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। ওই অনুষদের এক বিভাগের চেয়ারম্যান তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে বলে বসলেন তিনি দায় নেবেন না। ওই গবেষকরা কি অন্য কাউকে দায় নিতে বলেছে? এই হুমকি-ধমকির সময় নিজ বিভাগের নিজ সহকর্মীর পাশে তো দাঁড়ালেনই না উল্টো দায় না নেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এমন একটি মেসেজ গেছে যেন বিভাগের চেয়ারম্যানও সরকার তথা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে। শিক্ষকরা যদি দলান্ধ রাজনীতি না করতো তাহলে এমনটি হতো না বলেই আমি বিশ্বাস করি।
ওই সচিব সাহেব কেবল একটি কথাই বারবার বলছিলেন। সেটি হলো গবেষণার ফলাফল আগে পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশ না করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা ঠিক নয়। তিনি পিয়ার রিভিউ সম্বন্ধে কি জানেন? তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে এই বিষয়ে বেশি জ্ঞান রাখেন নাকি? প্রথম কথা হলো এই গবেষণা কেবল বাংলাদেশের জনস্বার্থের জন্য রিলেভেন্ট। এই ধরনের গবেষণার কাজ আন্তর্জাতিক কোনো ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরওয়ালা জার্নালে প্রকাশ যোগ্য নয়। এমনকি লোকাল জার্নালেও প্রকাশযোগ্য নয়। কারণ এসবের মাধ্যমে কোনো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয় না। এমনকি নতুন কোনো পদ্ধতিও আবিষ্কার করা হয়নি। পুরানো এস্টাবিøসড পদ্ধতি ব্যবহার করে দুধে কি কি খারাপ উপাদান আছে সেটাই কেবল জেনেছেন। এটা অনেকটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাজের মতো। আমরা অনেক সময় রক্ত কিংবা মলমূত্র পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাই ঠিক তেমনি দুধে যেই উপাদান থাকা উচিত সেগুলো আছে কিনা আর যেগুলো থাকা উচিত নয় সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় কিনা। এর ফলাফল পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশের কথাইবা আসে কেন? তারপরও সত্যি যদি নতুন কোনো বেটার পদ্ধতি আবিষ্কার করে থাকেন নিশ্চয়ই পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশযোগ্য। এখন আসা যাক বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালগুলো কি? এখানকার জার্নালে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা ডিন হন তিনিই হন এডিটর। সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা হন বোর্ড মেম্বার। দেখা যায় তাদের অধিকাংশই সড়ৎব রাজনৈতিক নেতা ঃযধহ ধ শিক্ষক-কাম গবেষক। এখানে কীভাবে ভিন্নমতের শিক্ষকের আর্টিকেল বছরের পর বছর ফেলে রাখে তা আমরা জানি। আবার নিজ দলের বা নিজ মতের কেউ হলে কীভাবে তড়িৎ গতিতে আর্টিকেল একসেপ্টেড হয়ে প্রকাশিত হয় সেটাও আমরা জানি। পৃথিবীর কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয়েরই তাদের নিজস্ব জার্নাল নেই। আবার থাকলেও সেগুলোর এডিটরিয়াল বোর্ড মেম্বারদের অধিকাংশই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী। আমরা তো এমন বলদামি মার্কা নিয়ম করছি যেকোনো আর্টিকেলের ন্যূনতম একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হলে ওই জার্নালে প্রকাশের জন্য বিবেচনাই করা হবে না। এখন অধ্যাপক ফারুকের ঘটনার পর তার বিভাগের চেয়ারম্যানের অবস্থান স্পষ্ট প্রমাণ করে এই গবেষণার ফলাফল জিন্দেগিতেও প্রকাশিত হতো না। কারণ এখানে কোম্পানি, রাজনীতিবিদ আর সিভিল সার্ভেন্ট মিলে এমন এক হলি এলায়েন্স তৈরি হয়েছে সেখানে জনস্বার্থ বিবেচনার কোনো সুযোগই নেই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]