• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৬২৮ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী


টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৬২৮ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

মুরাদ হাসান, তাপসী রাবেয়া : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের অনেক জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুতগতিতে। এরকমভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পানি যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানায়, আজকের মধ্যেই যমুনা নদীর জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাঙ্গামাটিতে ১৬৫, হাতিয়ায় ১৩৫, সীতাকু-ে ১২৯, টাঙ্গাইলে ১২২, কুতুবদিয়ায় ১১১, সনদ্বীপে ১০১ এবং চট্টগ্রামে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতির দিকে।

বন্যা পরিস্থিতি আশংকায় শুক্রবার সচিবালয়ে খোলা ছিল দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইউনিট। সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো.এনামুর রহমান বলেন, সারা দেশের ৬২৮টি পয়েন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। বন্যা কবলিত জেলাগুলোর দূযোর্গ ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের ৬৪টি জেলায় বন্যা মোকাবেলায় ১৭ হজার ৫৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও দুই কোটি ৯৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যা-উপদ্রুত জেলাগুলোতে প্রথমে ২০০ মেট্রিক টন এবং পরে ৩০০ মেট্রেক টন খাবার পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় দুই হাজার প্যাকেট উন্নতমানের শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, জেলায় অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত  হচ্ছে।  ৫ দিন টানা বৃষ্টিপাতের  কারণে আমন ধানের  বীজতলা  বিনষ্ট হয়ে  গেছে।  দুই দফায় অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পানিতে  ভেসে গেছে ৫ উপজেলার প্রায় তিন কোটি টাকার মাছ।  গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরকারি হিসাবে  জেলায় প্রায় ১৩ হাজার ১০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি স্বপ্না আক্তার জানান, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার পরিবার। গতকাল শুক্রবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সবকটি(৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান,তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে ধনেশ পত্রনবীশ জনান, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়তে শুরু করেছে সোমেশ্বরী নদীর পানি। ভারতের মেঘালয়ে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে উপজেলার  বিভিন্ন ইউনিয়ন।

 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান,  জেলার ধোবাউড়ায় টানা বর্ষণ  ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিতাই নদীর তীর ভেঙে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে ।  ফলে শতশত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। শতাধিক হেক্টর আমনের বীজতলা তলিয়ে হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের কিছু অংশেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে আমাদের অর্থনীতির প্রতিনিধি জাকারিয়া তারেক আরো জানান, এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান,  জেলার অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদনদীর পানি বাড়ছে। এতে করে নদ-নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দিীহয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। ডুবে গেছে হয়েছে নিচু এলাকার বীজতলা, ভুট্টা ও সবজির ক্ষেত।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে  ১২ টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে ১৭টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছেন এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে  শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন ও দৌলতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গত চারদিন ধরে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সোমবার রাত  থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে আছে অসংখ্য যানবাহন।

পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান সদরের আর্মী পাড়া, মেম্বার পাড়া, শেরে বাংলা নগর, মধ্যম পাড়া, উজানী পাড়া, ক্যউচিংঘাটা, ভরাখালীসহ শহরের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সিলেট প্রতিনিধি জানান, সিলেটের নদনদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও ধলাই এবং গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারির সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]