দশ বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

শাহীন চৌধুরী : দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া নানামুখী পদক্ষেপের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন গত দশ বছরে ক্ষমতা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিগত পাঁচ বছরে ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। খবর বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রের।

সূত্রমতে, সরকারের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে ২০০৯ সালে যেখানে দেশে ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদ হতো। সেখানে বর্তমানে তা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে সেটি ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২১ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৫৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১৪ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে আরও ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে সরকার তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্ত জনসংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুতের বিক্রয় মূল্যহারের চেয়ে শিল্প গ্রাহকের মূল্যহার প্রায় দ্বিগুণ। শিল্প গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেট ৮ টাকা ২০ পয়সা এবং পিক রেট ৯ টাকা ৮৪ পয়সা। অপরদিকে আবাসিক গ্রাহকের গড় বিদ্যুত বিক্রয় মূল্যহার ৫ টাকা ৭০ পয়সা। আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে লাইফ লাইন স্ল্যাব (০ থেকে ৫০ ইউনিট) গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ যার, রেট ৩ টাকা ৫০ পয়সা। নিম্নবিত্তদের জন্য এই কম মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের। এছাড়া বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরই চালু হবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অন্যতম পায়রা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এ বছরই উৎপাদনে আসবে। এর বাইরে বেসরকারি খাতের আরো ছয়টি কেন্দ্র থেকে আসবে ৭২৩ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ। চলতি বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসবে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট থারমাল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের বিষয়ে ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চলতি বছরের মার্চে চালু হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিটের কমিশনিং হবে বলে জানা গেছে। আর আগামী বছরের জুন নাগাদ চালু হবে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি।
পায়রার পাশাপাশি চলতি বছরই উৎপাদনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বেসরকারি খাতের বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস ও ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। চট্টগ্রামের শিকলবাহায় কর্ণফুলী পাওয়ারের সঙ্গে ১১০ মেগাওয়াটের এইচএফওভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এটি উৎপাদনে আসার কথা।

শিকলবাহায় ১০৫ মেগাওয়াটের এইচএফওভিত্তিক আরেকটি আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও এর কনসোর্টিয়ামকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেয়া হয় ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে সঞ্চালন লাইন এবং বিতরণ লাইনেরও ব্যাপক উন্নয়ন করতে হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]