• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » দুধ নিয়ে গবেষণায় দ্বিতীয় দফায় মিলল আরও ভয়ানক তথ্য, চক্রান্ত না খোঁজার তাগিদ


দুধ নিয়ে গবেষণায় দ্বিতীয় দফায় মিলল আরও ভয়ানক তথ্য, চক্রান্ত না খোঁজার তাগিদ

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন : এবার বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নতুন ১০টি নমুনার ১০টিতেই এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক এবং বায়োমেডিকেল রিসার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক আ ব ম ফারুক। দ্বিতীয় দফার গবেষণা শেষে তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ৩টি এন্টিবায়োটিক কিন্তু এবার পাওয়া গেছে ৪টি এন্টিবায়োটিক। এইগুলো হলো,অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং  লেভোক্সাসিন। গতকাল শনিবার অধ্যাপক ফারুকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এ গবেষণা নিয়ে চক্রান্ত না খোঁজার আহবান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পেশকালে উপস্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) ইত্যাদি ল্যাবরেটরিগুলো যেন এখন থেকে নিয়মিতভাবে দুধে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা পরীক্ষা  করে । বিএসটিআইয়ের দেড় যুগের পুরনো দুধের স্ট্যান্ডার্ডে (ইধহমষধফবংয ঝঃধহফধৎফ, ইউঝ ১৭০২. ২০০২) বর্তমানের নয়টি পরীক্ষার সাথে কমপক্ষে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষার মতো দুটি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে। দুধের এই স্ট্যান্ডার্ডকে যুগোপযোগী করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম ।

গত সপ্তাহে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করেছি। প্রথমবারের মতো এবারও পূর্বোক্ত ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত ৩টি নমুনা, অর্থাৎ সর্বমোট ১০টি নতুন নমুনায় এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবার সবগুলো নমুনাতেই এন্টিবায়োটিক শনাক্ত করা গেছে। এন্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ছিল ৪টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোক্সাসিন)। এর মধ্যে আগের বার ছিল না এমন এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোসিন)। ১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। আমরা আশা করি আমাদের প্রকাশিত এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে; সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে। উপরন্তু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সতর্ক করা যাতে তারা দুধ সিদ্ধ করে খায়। প্যাকেট কেটে স্ট্র দিয়ে বিজ্ঞাপনের মত যেভাবে ঢকঢক করে করে খাওয়া হয় সেটা উচিত না। দুধ সিদ্ধ করে খেতে হবে। কেননা সেখানে জীবাণু পাওয়া গেছে। আমারও ধারণা ছিল যে পাস্তুরিত দুধে কোনো ভেজাল থাকবে না, কিন্তু দেখা গেল সেটা হচ্ছে। তাই এটা জনগণকে জানাতে হবে। এটাই ছিল জনগণকে জানানোর উদ্দেশ্য যাতে তারা রোগাক্রান্ত না হয়। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]