• প্রচ্ছদ » » নির্মাণরত পদ্মাসেতু জোড়া লাগাতে ‘মানুষের মাথা’ লাগানোর গুজব দমনে প্রশাসনের দৃঢ় হওয়া জরুরি


নির্মাণরত পদ্মাসেতু জোড়া লাগাতে ‘মানুষের মাথা’ লাগানোর গুজব দমনে প্রশাসনের দৃঢ় হওয়া জরুরি

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

হাসান শান্তনু

একাত্তরের নারীঘাতক মৌলভী, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার সাঈদীকে যারা ‘চাঁদে’ দেখেছেন তারা নির্মাণরত পদ্মাসেতু জোড়া লাগাতে ‘মানুষের মাথা’ লাগানোর অপ্রচারের সঙ্গে যুক্ত, এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিলেতি সনদপত্রে ‘হাফ এডুকেটেড ব্যারিস্টার’ হওয়ার দরকার নেই। জীবন্ত কোনো মানুষের ‘মাথা কেটে’ সেতু জোড়া লাগানোর গুজবে সমাজের একটা শ্রেণির বিভ্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনÑদুটির ভ‚মিকা নিয়েই যথেষ্ট চিন্তিত, লজ্জিত ও বিস্মিত হওয়ার কারণ আছে।
ডটকম, ডটনেট বিস্ফোরণের যুগেও রাজধানীর মতো সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা এতো বেশি! যারা বিশ্বাস করেন মানুষের ‘মাথা কেটে’ রক্ত না দিলে পদ্মাসেতু জোড়া লাগবে না! বিভ্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি বলে ধারণা হওয়ায় বিভ্রান্তি কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, এক মন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। একসময় গ্রামের গ্যাদা বাচ্চারা ‘মাথা কাটার’ যে ভৌতিক গল্প বিশ্বাস করতো, সেই গল্প একবিংশ শতাব্দীতেও বিশ্বাস করেন মুঠোফোন সেট, ইন্টারনেট সংযোগে হাতের মুঠোয় পুরো বিশ্ব রাখা মানুষেরাও! একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকেও কী সমাজ ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসের সমাজেই রয়ে গেছে? সেজন্যই কী ‘মানুষের কাটা মাথা দিয়ে সেতু জোড়া লাগানোর’ এ সমাজে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’র ‘অপবাদে’ নারীদের ধর্ষণ করেন মৌলভী, সমাজপতিরা? মাদ্রাসার হুজুর ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়া মানে ‘পুরো আলেম সমাজের অতৃপ্তি, অমর্যাদা’, এমন সমাজেরই মাদ্রাসার একশ্রেণির শিক্ষার্থী মনে করে। এর প্রতিশোধ নিতে তারা নুসরাত জাহান রাফিদের শরীরে আগুন দেয়। ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে ধর্ষণ জায়েজ’… মওলানা ‘মওদূদীর ইসলামের’ এ তত্ত¡ এমন সমাজেই গোলাম আযম, নিজামীদের ফাঁসিতে লটকানোর পরও টিকে থাকে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের শিশু ধর্ষণ বর্বরতা বেড়ে যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে, মাদ্রাসাগুলোতে মওদূদীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়া।
‘মাথা কাটার’ গুজবে বিভ্রান্তির পর প্রশ্নটা খুব জোরালো হয়ে আসছে। দেশকে ডিজিটালাইজড করার কথা বলছে সরকার। শহুরে সমাজের একটা বড় অংশ অবৈজ্ঞানিক, হিং¯্র গুজবে বিভ্রান্ত হতে পারে খুব সহজে। সমাজটা তাহলে কতো দূর এগিয়েছে, এ হিসাব রাখেন কী আমলারা বা প্রশাসন? পদ্মাসেতু নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে তাদেরসহ প্রশাসনের আরও সোচ্চার হওয়ার খুব দরকার। একাত্তরের জল্লাদ সাঈদীকে কথিত চাঁদে দেখাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত কাÐের মতো কিছু একটার আশঙ্কা এবার আগেভাগেই উড়িয়ে দেয়া প্রশাসনের ঠিক হবে না। গুজব ছড়ানোর পেছনের উদ্দেশ্যও তেমনই। পদ্মাসেতুর নির্মাণ ঠেকাতে পুঁজিবাদী দুনিয়ার একটা অংশের সব ষড়যন্ত্র ঠেলে সরকার কী দৃঢ়তা, সাহসের সঙ্গে এগিয়েছে, তা প্রায় পুরো বিশ্ব জানে। এটুকু মোটেও বাড়তি কিছু নয়, পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হওয়া আসলে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তারই প্রতিফলন। গুজব দমনে প্রশাসনের দৃঢ় হওয়া জরুরি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]