• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণকে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীত হিসেবে দেখা হচ্ছে সম্পূরক হিসেবে নয়, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা


শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণকে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীত হিসেবে দেখা হচ্ছে সম্পূরক হিসেবে নয়, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

আমাদের নতুন সময় : 13/07/2019

হ্যাপি আক্তার : দেশের সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা চার দশক ধরে চললেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও সরকারের ক্ষমতা কমে যাওয়ার ভয় থেকেই শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাচ্ছেন না। এককেন্দ্রীক শাসনব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হওয়ায় ‘ঢাকা বনাম বাংলাদেশ’ এমন বাস্তবতার দিকে সবকিছু এগিয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে সেখানে এক কেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থাই জেঁকে বসেছে। যে কারণে বর্তমান বাস্তবতায় দেশে নাগরিকদের পিয়নের চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আসতে হয় ঢাকায়।

সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ২০৪১ সালের মধ্যে শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, ‘কিন্তু এতো সময়ের প্রয়োজন কেন হবে ?’  বিশেষজ্ঞরা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন । এ বিষয়ে ড. হোসেইন জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের কুড়িগ্রামের স্কুলে বাড়তি একটি সেকশন হবে কি না, এটি কি সেই স্কুলের প্রিন্সিপালই দায়িত্ব নিতে পারেন না, তার জন্য ঢাকায় মন্ত্রণালয় পর্যন্ত আসতে হবে ? তিনি আরও বলেন, বলা যায় আমাদের শাসন দর্শনের অন্যতম দুটি ঘাটতি আছে। আমরা বিকেন্দ্রীকরণকে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীত হিসেবে দেখছি, সম্পূরক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যার কারণে ধীরে ধীরে দেশে যে বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে সেটা ‘ঢাকা বনাম বাংলাদেশ’। এই বাস্তবতার দিকে আমরা অবধারিতভাবে এগোচ্ছি।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমানের নের্তৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করা হয়েছিলো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য। সেই কমিশনে ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরিনা রহমান খান। জেরিনা রহমান খান  মনে করেন, বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে রাজনীতিকদের মাঝে একটি জুজুর ভয় কাজ করে। মানসিকতা থাকতে হবে যে, শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করবো। আইন আছে, সেটা শুধু পলিসি করে কার্যকর করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে স্থানীয় সরকার কখনোই উঠতে পারে না। সুতরাং যে ভয় তা কাটিয়ে উঠতে হবে।

আশির দশকের শেষ দিকে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনের সময় দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো এবং চালু করা হয়েছিলো উপজেলা পরিষদ। তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ এই বিকেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করেছিলো। এরশাদ সরকার পতনের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারগুলো বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে অনেক কথা বলে আসছেন। তবে কতটা বাস্তবতা হয়েছে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের মূল বিষয়টি তাদের সময়ে হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিকেন্দ্রীকরণের প্রশ্নে একটা সময়ের  প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।  তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন করার জন্য ক্ষমতা দেয়া আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য কমিটি আছে, কিন্তু আইন প্রয়োগের যে ক্ষমতা তার কিছু অংশ দেয়া আছে। তাছাড়া যে অফিসগুলো ঢাকাতে আছে যেগুলো ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় দেয়ার জন্য প্রশাসনিকভাবে সময়ের প্রয়োজন।

সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]