উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনের নেয়া নীতিকে সমর্থন করলো সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ৩৫ দেশ

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

সুস্মিতা সিকদার : উইঘুরের মুসলিমদের প্রতি চীনের নেয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ৩৫টি দেশ। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে চীনকে এ সমর্থন জানিয়েছে ওই দেশগুলো। অন্যদিকে, পশ্চিমা অনেক দেশ চীনের ওই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। এবিসি নিউজ

চীনের বিরুদ্ধে উইঘুরের লাখ লাখ মুসলিমদের আটক ও জাতিগত নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। চীনের নীতির বিরুদ্ধে এ সপ্তাহে ২২ জন রাষ্ট্রদূতের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে পেশ করা হয়। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি এবং জাপান নির্বিচারে উইঘুরের মুসলিমদেরকে আটক রাখা থেকে বিরত থাকা এবং উইঘুরের স্বাধীনতা আন্দোলন ও জিনজিয়াংয়ে অন্যান্য মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানায়।

তবে, ৩৫ দেশের ওই চিঠিতে পশ্চিমাদের  ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়, পশ্চিমারা ‘মানবাধিকারকে রাজনৈতিকীকরণ’ করছে। তারা চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সৌদি আরব ও রাশিয়া ছাড়াও চীনের পক্ষে যেসব দেশের কুটনীতিকরা স্বাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে, বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ, উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, বেলারুশ, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিরিয়া, পাকিস্তান, ওমান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন।

ওই লিখিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার মতো নানা হুমকি মোকাবেলা করেছে। তাই দেশটি জিনজিয়াং প্রদেশে ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ নিরসনে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই সাথে চীন ওই অঞ্চলে বৃক্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, জিনজিয়াংয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে  এসেছে এবং ওই অঞ্চলের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। গত তিনবছরে ওই অঞ্চলে কোন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানকার মানুষ সুখ, পরিপূর্ণতা ও নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে।

ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার বলছে, জিনজিয়াংয়ে সন্ত্রাসবাদ, উইঘুর বিচ্ছিন্নকারীগোষ্ঠী এবং উগ্রমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে দমনমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, জিনজিয়াং থেকে মাত্র কয়েক হাজার উইঘুর মুসলিম সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়। অথচ সমগ্র মোট উইঘুর জনগোষ্ঠীর ১০ শতাংশকে কারাগারে আটক রয়েছে।

বেইজিং জিনজিয়াংয়ে ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রসঙ্গে ২০১৮ সালে প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, দাড়ি রাখা এবং নামাজ পড়াকে চরম পন্থা হিসেবে মনে করছে চীন। শিবিরে আটক মানুষদেরকে সমাজতান্ত্রিক শ্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়, ভিডিও দেখানো হচ্ছে যাতে তাদের নিজেদের ধর্মের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয় এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হতে অঙ্গীকার করানো হয়।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার চীনের কুটনীতিক জু চেন বলেন, চীন যে কোন ধরনের মানবাধিকার লংঘন অস্বীকার করে। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের কাছে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকরা চীনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, চীন ও আফ্রিকার মতো উন্নয়ণশীল দেশগুলোতে বিশ্বজুড়ে কি ঘটছে , সে ব্যাপারে সত্য কথা হলো উন্নয়ন ব্যতীত অন্যকোন বিষয়ে কথা বলা মানবাধিকার বিরোধী।

বিশ্বের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ কোন দেশের নেতা জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিমদের প্রতি আরোপিত নীতির নিন্দা জানায়নি। পর্যবেক্ষকরা এটাকে মুসলিম বিশ্বে বেইজিং এর ব্যাপক বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও বলেছেন, জিনজিয়াংয়ে উন্নয়ণ ও সমৃদ্ধির কারণে মানুষ সুখে বসবাস করছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]