এসিড সন্ত্রাস কমলেও বেড়েছে সহিংসত

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

ইয়াসমিন : ১৬ বছরের কিশোরী তানজিম আক্তার মালা  ২০১৮ সালের এক রাতে নিজের বাড়িতে ছোটবোনের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকার সময় এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তানজিম। তানজিম ছিল পরিবারের সবচেয়ে মেধাবী মেয়ে। শুধু তানজিম নয় গত কয়েক দশকে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার জন। এদের মধ্যে ৯০ ভাগই নারী।

এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে ৮ টি। এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন  ৯ জন। ২০১৮ সালে ১৮টি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। ১৯৯৯ সাল থেকে ৩ হাজার ৪শ ১২ টি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এসময় এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭শ ৯১ জন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৪-২০১৮ এই সময়কালে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এইসময়ে মোট ৫২৭৪ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৩৯৮০ জন এরমধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৪৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪৯ জনকে, এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭৩০ জনকে। আর শুধু ২০১৯ সালে মোট ২০৮৩ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ এনা বলেন, গত মে ও জুন মাসে আমরা কোন এসিড সন্ত্রাসের খবর পাইনি। তবে, এখনও আমাদের হাসপাতালে তিনজন মেয়ে ভর্তি আছে। তারা এসিড ভিকটিমের শিকার। গতবছর ১৮টি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে তানজিমের ঘটনায় নি¤œ আদালত অপরাধীকে মৃত্যুদ- দিয়েছে। পরে অপরাধীর আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। সেটি এখনও বিচারাধীন আছে। এবছর সংখ্যাটা কমেছে কিন্তু আমরা সবসময় চেয়ে আসছি সবধরণের সহিংসতা যেন বন্ধ হয়। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু দেখা যাচ্ছেনা। এখন এসিড সন্ত্রাস কমেছে কিন্তু পেট্রোল দিয়ে, কেরোসিন দিয়ে হত্যার সংখ্যাটা বেড়েছে। মানুষের নিপীড়নের হার বেড়েছে। নারী প্রতি, পুুরুষের প্রতি যে সহিংসতা সেটা কমেনি। তবে, অন্যান্য সহিংসতাগুলো বেড়েছে।

তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না, এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। দেশে যদি আইনের শাসন থাকত তাহলে হয়ত সহিংসতা কমত। এখন নারীর প্রতি, পুরুষের প্রতি এমনকি মানুষের প্রতি সহিংসতা এমন একটা পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, আমি বলব এটা একটা দেশের জন্যও অন্তরায়। আমাদের পুরো উন্নয়নের জন্য অন্তরায়। এটা নিয়ে তো রাজনৈতিকভাবে কমিটমেন্ট দরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কিছু ঘোষণা দিয়েছেন। এটা তো একটা জবাবদিহিতার জায়গা। আমাদের অনেক কমিটমেন্ট আছে। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এখনও অপরাধিরা অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে। সরকারি কৌশলী যারা নিজেরা বিচারটি যেন ন্যায় বিচার হয় সেই ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন তখনই শুধু এসিড ভিকটিমরা ন্যায়বিচার পায়।

তিনি বলেন, কেন যেন আমার মনে হয় এখন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ঠিকভাবে হচ্ছেনা। ইয়াসমিন হত্যা মামলার পরে আর কোন বড় আন্দোলন গড়ে উঠেনি। নুসরাত মারা যাবার পর কিছুটা প্রতিবাদ হয়েছিল কিন্তু সেটাও আমরা ধরে রাখতে পারিনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা নারী ও শিশু ইস্যুতে কাজ করছি তাদের মধ্যেও কেমন সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এটা পরিবর্তন দরকার। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]