• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » কর্মের সন্ধানে ভিনদেশিরা একদিন আসবে বাংলাদেশে, এমনই প্রত্যাশা মেকানিক নাজমার


কর্মের সন্ধানে ভিনদেশিরা একদিন আসবে বাংলাদেশে, এমনই প্রত্যাশা মেকানিক নাজমার

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

শাহীন খন্দকার : আত্মবিশ্বাস আর নিজ পরিশ্রমে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন বরিশালের মেয়ে নাজমা বেগম। তিনি গত ৩০ বছর ধরে রাজধানীতে রিকশা-সাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিদিন সেবা দিচ্ছেন প্রায় একশ গ্রাহককে। বতর্মানে আবাহনী মাঠের পশ্চিম পাশের ফুটপাতে গেলেই দেখা মেলে এই ব্যস্ত মেকানিকের। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় রাজধানী ঢাকাতে সব থেকে বেশী রিকশা চলাচল করে   সন্ধানে ভিনদেশিরা একদিন

(শেষ পৃষ্ঠার পর)  থাকে। রাজধানীতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রিকশা বেশি ব্যবহার করেন। বন্ধের দিনও রিকশার চলাচল বেশ লক্ষণীয়। আজকাল নি¤œ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদেরও এইবাহন-ই একমাত্র ভরসা। আজ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবদান সত্যি দৃষ্টান্ত                                              এবং নারীরাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে।  সেখানে একজন দক্ষ রিকশা মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন বরিশালের  মেয়ে নাজমা বেগম(৪৫)।

নাজমা বেগম বলেন, রাজধানী জুড়েই আমার অসংখ্য সাগরেদ।শুধু তাই নয় আমার স্বামী আব্দুর রহমানও কিন্ত আমারই সাগরেদ! তিনি নিজের কাজ প্রসঙ্গে জানান, হতদরিদ্র ঘরের  মেয়ে নাজমা অন্য-বস্ত্রের সন্ধানে সেই শিশু বয়স থেকেই অন্যের বাসা বাড়ীতে কাজ করে যখন কলাবাগানের বস্তিতে ফিরতেন, সেই সময়ে রাস্তায় দাড়িয়ে পুরুষ রিকশা সাইকেল মেকারদের কাজ দেখতেন এক  কোণে দাঁড়িয়ে।  দেখতেন কি করে রিকশা-সাইকেল মিস্ত্রি কাজ করছে! আর তিনি মনে মনে পরিকল্পনা করতেন, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ না করে কি করে রিকশা-সাইকেলের মিস্ত্রী হওয়া যায়! সেই আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম আজ নাজমা  বেগমকে করে তুলেছে একজন সফল সাইকেল-রিকশা মিস্ত্রী হিসেবে। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তার অভাবকে করেছেন আজ জয়।

তিনি রিকশা-সাইকেল মেরামতের কঠিন কাজটি করছেন গত ৩০ বছর ধরে। তিনি পাল্টে দিয়েছেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের  পেশাবৃত্তিকে। রিক্সা মেকার নাজমা বেগম তার জীবনের শুরুতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে রিকশা-সাইকেল মেরামতের কাজ শুরু করেন। এক ভাইয়ের কাছ থেকে ২০০০ টাকা ধার দেনা করে যন্ত্রপাতি ক্রয় করেন। স্বামী এক সময় তাকে সহযোগিতা না করলেও, এখন তার স্বামীও তাকে কাজে সহযোগিতা করছেন। ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন এই রিকশা  মেকারের কাজ করেই। বর্তমানে তার প্রতিদিন আয় ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায় বলে জানান তিনি। সরকারের নিকট তার দাবি, দরিদ্র মেয়েদের  ট্রেনিং দিয়ে এভাবেই যদি পূর্ণবাসন করতেন তাহলে দেশে কেউ গরীব থাকতো না । তার প্রত্যাশা, হাতের কাজে প্রশিক্ষণ হত দরিদ্রদের ভাগ্যের চাকাই ঘুরাবে না, ঘুরে যাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, ভীনদেশিরা কর্মের সন্ধানে একদিন আসবে বাংলাদেশে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]