• প্রচ্ছদ » » ক্রিকেটে ভারতের উত্থান এবং ‘বড়’ হওয়ার দিনগুলো


ক্রিকেটে ভারতের উত্থান এবং ‘বড়’ হওয়ার দিনগুলো

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

গৌতম চক্রবর্তী

তখন প্রায় বাচ্চা ছেলে আমি। ৮৩’র বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রচুর আশা নিয়ে সাদাকালো টিভিতে খেলা দেখতে বসা বড়দের সঙ্গে। ১৮৩ রানে বান্ডিল হয়ে মুখ চুন করে অপেক্ষা। বলবিন্দর সিং সাঁন্ধুর বলে গ্রিনিজের অফ স্ট্যাম্প উড়ে যেতেই লোডশেডিং। ট্র্যানজিস্টারে রিচার্ডের বেধড়ক ঠ্যাঙানি শুনে হতাশার চ‚ড়ান্ত। কপিলের নেয়া সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচটা পরে রেকর্ডিং করা খেলায় দেখেছিলাম। রেডিওতে শুনে খানিক হইহল্লা কিছুটা স্বস্তি, কিন্তু ভরসা ছিলো না। ব্যক্কাস, দুঁজো পর্যন্ত যাদের সলিড ব্যাটিং, তাদের বিরুদ্ধে ৬০ ওভারে ১৮৩ রান হাতে স্বপ্ন দেখাটাও অন্যায়। আমাদের সকলকে অবাক করে একটা একটা করে উইকেট যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর রানরেট চড়ছে । কারেন্ট যখন এলো, তখন শেষ উইকেটের লড়াই, আস্কিং রেট ৬ এর উপরে। বড়রা কাঁপছে আবেগে, যেন বিশ্বাস করতে পারছে না কিছুই। যেন স্বপ্ন। মহিন্দর অমরনাথের বলটা শেষ উইকেট ফেলার পরই সব যেন পাগল হয়ে গেলো। মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে সেই মাঝরাতে। কাঁদছে, হাসছে গড়াগড়ি দিচ্ছে রাস্তায়। বাইক, কার সাইকেল, যে যা পেয়েছে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে রাতের নগরীতে। মিষ্টির দোকান খুলিয়ে মিষ্টি কিনে খাওয়াচ্ছে, যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই। সেইদিন আমাদের ছোট্ট জনপদ যেন পাগল হয়ে গিয়েছিলো আবেগে। আন্দাজ করতে অসুবিধা নেই, সারাদেশ সেদিন এমনভাবেই মেতেছিলো বিশ্বকাপ জয় নিয়ে। সেদিন আরও কিছু ঘটেছিলো লর্ডসের মাঠে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টানা তিনবার চাম্পিয়ান হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিলো আন্ডার ডগ ভারতের হাতে। গার্নার আর হোল্ডিংয়ের ছেলেমানুষের মতো কান্না স্বপ্ন ভঙ্গের কষ্ট সেদিন চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো আমার। বিশাল ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব লয়েড এক অদ্ভুত হতাশা নিয়ে নিজের শরীরটা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন কোনোমতে। না স্বপ্নেও কেউ ভাবেনি আমরা জিততে পারি। ভাবা সম্ভবও ছিলো না। ওটা ছিলো শতাব্দীর সেরা উত্থান, এক ক্রিকেট দৈত্যকে সরিয়ে অন্য আরেকজনের আবির্ভাবের সংকেত। এরপর বহু এগিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট। বহু নায়ক-মহানায়ক এসেছেন। বহু অবিশ্বাস্য জয়ও এসেছে, এসেছে অনেক ট্রফি। কিন্তু তেমন কোনো অলৌকিক রূপকথা আজ পর্যন্ত কেউ ঘটাতে পারেনি, না ভারত, না অন্য কোনো দেশ… যা কপিলের ভারত ঘটিয়েছিলো। তাই বলি একটা-দুটো কাপ না পেলেও কিছু আসে যায় না আমাদের। সামান্য মন খারাপ বড়জোর, তার বেশি কিচ্ছু নয়। কারণ যে অবিশ্বাস্য লড়াই আমরা দেখেছি চোখের সামনে তা বোধহয় একমাত্র ডেভিড আর গলিয়েথের লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা হয়। ক্রিকেটের সেই রূপকথা আমাদের লেখা, আমাদের অর্জন। আজকের শক্তিশালী ভারত সেই আনন্দ আর কখনো দিতে পারবে না, যা দিয়েছিলো সেদিনের অসম্ভব লড়াকু ১১ জন গড়পড়তা ভারতীয় খেলোয়াড়। তাই সেই আবেগে থরথরানি আর আসে না। আসে ¯্রফে মজা। আসলেই আমরা বড় হয়ে গিয়েছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]