• প্রচ্ছদ » » খুন-ধর্ষণ বন্ধে আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি?


খুন-ধর্ষণ বন্ধে আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি?

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

আমেনা কোহিনূর

ধর্ষণের শাস্তি অবশ্য অবশ্যই মৃত্যুদÐ হতে হবে। এ নিয়ে কারো কারো দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু কথা হলো, মৃত্যুদÐ হলেই কি ধর্ষণ বন্ধ হবে? বা খুনের শাস্তি মৃত্যুদÐ? তাহলেই কি সমাজে নয়ন বন্ডরা তৈরি হবে না? আমার মনে আছে শান্ত শহর দিনাজপুর ইয়াসমিন হত্যাকাÐে ফুঁসে উঠেছিলো। ১৯৯৫ সালে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছানোর কথা বলে ধর্ষণশেষে হত্যা করেছিলো ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গৃহপরিচারিকা ইয়াসমিনকে। এরই প্রতিবাদে জনতা দিনাজপুর থানা আক্রমণ করেছিলো, পুলিশ ফাঁড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলো। কয়েকজন পুলিশের গুলিতে মারাও গিয়েছিলো। ইয়াসমিন হত্যার বিচারও হয়েছিলো। দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ইয়াসমিনের একটা মুর‌্যালও। অনেক আগে চাঞ্চল্যকর নীহারবানু হত্যাকাÐ, সালেহা হত্যাকাÐসহ অনেক হত্যাকাÐের বিচার হয়েছে। কিন্তু হত্যাকাÐ কি থেমেছে? ধর্ষণ কি থেমেছে? অপরাধ থাকে মানুষের মনে, মগজে। শিশু যাতে সুস্থ সবল হয়, সেজন্য গর্ভবতী মাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হয়। শিশুর মস্তিষ্ক গঠন, মননের গঠনও সেই গর্ভ থেকেই শুরু হয়। মা যা যা চিন্তা করে, তা দেখে শিশুর মস্তিষ্ক সেভাবে তৈরি হয়। মা যদি বই পড়ে, গান শোনে, হাসি-খুশি একটি পারিবারিক পরিমÐলে থাকে, শিশুও সেভাবে বেড়ে ওঠে। এই বেড়ে ওঠা শিশুর ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হতে থাকে। মায়ের পরে পারিবারিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ শিশুর মনোজগৎ তৈরির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে মানুষের ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। বিত্তহীন বা নিম্নবিত্ত থেকে বড় একটা অংশ নিম্নমধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এটা খারাপ কিছু নয়। পৃথিবীর সব উন্নত দেশই একসময় এই অবস্থা অতিক্রম করেছে। কিন্তু যে মানুষগুলোর দ্রæত এই রূপান্তর ঘটলো, তাদের মননশীলতা কী পর্যায়ে আছে? তাদের শিশুরা কি নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হচ্ছে? রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন পড়ছে বা তাঁদের গান শুনছে? পড়ার বইয়ের বাইরে তাদের কি বাইরের বই পড়ার সুযোগ হচ্ছে? বিদ্যালয়গুলোতেও বা তারা কী শিখছে? আর সমাজ? সে কি তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে? কেউ না? আমরা কেউ না? সরকার সুস্থ প্রজন্ম তৈরির ক্ষেত্রে মাতৃকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার প্রকল্প, মাতৃকালীন ছুটির ব্যবস্থা করেছে। নৈতিকতাশিক্ষার জন্য স্কুলগুলোতে সততা স্টোর করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তার মানে সরকার শুরু করেছে। কিন্তু সব দায়িত্ব কি সরকারের ওপর চাপিয়ে কিছু হলেই আমরা শুধু তার সমালোচনা করবো? দায়িত্ব কি আমাদের নেই? মনে রাখতে হবে, আমরা একটা ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই এই সামাজিক অস্থিরতা। এই মুহূর্তে আমাদের দরকার ব্যাপক সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন। তাহলেই সমাজ থেকে খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ কমবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]