প্রবল বর্ষণে ডুবলো বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসে আহত ৪

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

অনুজ দেব : প্রবল বর্ষণে পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারো ডুবলো বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলা টানা বর্ষণে নগরীর অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি নগরীর বায়েজিদের আরেফিন নগর এবং কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। আরেফিন নগর মাঝেরঘোনা পাহাড়ের ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় শাহানুর আক্তার (৪০) এবং মর্জিনা বেগম (১৮) নামে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। সম্পর্কে মা-মেয়ে দুজনই পাহাড় ধসের কারণে ঘরে আটকে ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে গরিবুল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় নুসরাত(৩) ও রেহেনা বেগম(৩৫) নামের দুজনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ভোরে সার্সন রোডে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে।

কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পানিতে ডুবে গেছে বেশিরভাগ এলাকা। সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে নগরের অক্সিজেন, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেট, প্রবর্তক ও চকবাজার ও আগ্রাবাদ এলাকা। প্রধান সড়কগুলোতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন অফিস-স্কুলগামীরা।  হিসেবে পরিচিত বাকলিয়া, চকবাজার, কাপাসগোলার অবস্থা ছিল ভয়াবহ। সেখানকার বেশিরভাগ নিচতলার বাসা  দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। নগরের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র খ্যাত চাক্তাই খাতুনগঞ্জের বেশিরভাগ দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যালয় বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৯৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আরো দুইদিন নগরে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে ও ভূমিমধসের আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে নগরীতে জমে থাকা পানি সরাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪০ জন সদস্য ৪টি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেন।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় বন্যা

অনুজ দেব:  টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা। জেলার সাতকানিয়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, বড় দুয়ারা, ঘিলাতলী, মাহালিয়া এলাকা। বিভিন্ন ইউনিয়নে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া অংশের বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের উপর পানি বাড়ায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাথে টানা চারদিন ধরে সারাদেশের সড়ক বন্ধ রয়েছে।  সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বন্যায় পানিবন্দি রয়েছে ৫০ হাজার পরিবার। বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ ও লোহাগাড়া, পটিয়ার জুলধা, ডাঙ্গারচর, বড় উঠান, দৌলতপুর, শাহমীরপুর, বাঁশখালীর শেখেরখীল, বাহারছড়া, চাম্বল, গন্ডামারা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম, আনোয়ারার হাইলধর, জুইদন্ডী, বরুমচড়া, চন্দনাইশের দোহাজারী ইউনিয়নের চাগাচর দিয়াকুল, নয়াপাড়া, রায়জোয়ারা, বৈলতলী, ইউনিয়ন এবং হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ, ধলই, নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দন, ফতেপুর, মেখল, শিকারপুর ও আলমপুর এলাকা। শুক্রবার ভোররাতে বিউবোর একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে চকরিয়ার উপকূলীয় সাত ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষ। ফটিকছড়িতে বন্যাকবলিত হয়েছে নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর, লেলাং, ধুরং, গজারিয়া ও বারোমাসিয়া। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিন বলেন, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে অর্ধশত গ্রাম এখন পানির নিচে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালির নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপ উপজেলায় ডুবে গেছে কয়েকটি গ্রাম। ভেসে গেছে একাধিক মাছের ঘের। উপকূলবর্তী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকছে বন্যার পানি। রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সর্তা খাল ও ডাবুয়া খালের কয়েকটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]