• প্রচ্ছদ » » ফেসবুকের ইতিবাচক-নেতিবাচক ব্যবহার


ফেসবুকের ইতিবাচক-নেতিবাচক ব্যবহার

আমাদের নতুন সময় : 14/07/2019

রবিউল আলম

ডিজিটাল যুগে ফেসবুক ছাড়া কি চলে? বর্তমানে প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল। বিজ্ঞানের এই চমৎকার আবিষ্কারকে আমরা কি চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে পারছি। আমরা ফেসবুকের বদৌলতে অনেক কিছু দেখছি, যা আমরা দেখতে চাই না। যা কিছু শেখার প্রয়োজন ছিলো তা শিখতে পারছি না দেখতে হচ্ছে ছেলে মায়ের চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় বের করে দিচ্ছে, বাবাকে গুনে গুনে ২০টা চড়-থাপ্পড় দিচ্ছে, মাকে একটা মিষ্টি খাওয়ানোর অপরাধে। প্রকাশ্যে বরগুনায় স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে স্বামীকে হত্যা করছে। গর্ভবতী মহিলাকে জমির জন্য গাছে বেঁধে নির্যাতন করছে… এ রকম অনেক কিছুই আমরা দেখতে চাই না। দেখতে চাই এই ভিডিও ধারণকারীদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ। নির্যাতিতার পাশে না দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখতে কার ভালো লাগে। এতোশত দুর্ঘটনা থেকে আমরা কি শিখলাম। কেন আমরা একটি বীরপুরুষের প্রতিবাদের দৃশ্য দেখলাম না। ছেলে বাবাকে পেটাচ্ছে, এ দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে দিয়ে বিচার চাইছেন। ফেসবুকে ধারণ করার জন্য বাবা আরও দুই-চারটা চড়-থাপ্পড় বেশি খাচ্ছেন। ফেসবুক ধারণকারীরা যদি বাবাকে থাপ্পড় মারার অপরাধের পাশাপাশি ছেলের বিচারের দৃশ্যটা দেখাতে পারতেন, তবে কিছুটা হলেও অপরাধীদের মনে ভয় কাজ করতো। অসহায় বাবা-মা কিছুটা হলেও সান্ত¡না খুঁজে পেতেন। আমরা কি ফেসবুক থেকে শেখার চেষ্টা করছি, না শিখতে পারছি। শুধু দেখাতে গিয়ে অনেকের জীবন হারাচ্ছি। বরগুনার হত্যাকাÐ দেখে নিজেকে মানুষ পরিচয় দিতে লজ্জা হচ্ছে এই আমার বাংলাদেশ, এই আমরা বাঙালি জাতি। প্রকাশ্যে একটা ছেলেকে কোপাচ্ছে, তার স্ত্রীর একাই বাঁচানোর চেষ্টা করছে, শত শত মানুষরূপী কিছু কাপুরুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, মানবতা আজ কোথায়? এই নৃশংস হত্যাকাÐ দেখার পরও কি আপনাদের অপরাধী মনে হয় না। হত্যাকাÐের ভিডিওটি না দেখলেই ভালো হতো, রাতে ঘুমুতে পারছি না। এ কোন সমাজে বাস করছি। এই সমাজের জন্য, দেশের জন্য, নিজের জন্য কতো না কি করছি শেখানোর জন্য। আমরা কি শিখতে পারলাম। প্রতিটি অপরাধের পেছনে কিছু কারণ থাকে। থাকতে হয় অপরাধের মাত্রা। এখন ফেসবুকে যে অপরাধ দেখছি তা তো মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। আর কতো মাত্রার অতিরিক্ত অপরাধ দেখতে হবে ফেসবুকের বদৌলতে। প্রিয় ফেসবুক বন্ধুরা এখন থেকে অপরাধীদের প্রতিরোধের দৃশ্য দেখিয়ে অপরাধীদের মনে ভয় ঢুকান, আর কোনো বাবা-মায়ের গায়ে হাত দিলে সেই হাত ভেঙে দিন, ফেসবুকে ধারণ করে দেখান। সন্ত্রাসীদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধের দৃশ্য ধারণ করে দেখান। আমাদের এই সোনার দেশে অসভ্যতা করা যাবে না। করতে চাইলে তোমরা আর পারবে না। আমাদের বাবা-মা, আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ আমরাই রক্ষা করবো। আমরাই রক্ষা করতে পারবো। ফেসবুককে সঠিক কাজে ব্যবহার করুন, সমাজকে সচেতন করুন। লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]